শফিকুর রহমান রয়েল
আঙুল উঠছে চীনের দিকে। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেখানে সরাসরিই দায়ী করছেন যে, কোভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাস চীনের গবেষণাগারে সৃষ্ট, সে জায়গায় অনেকেই নাম উহ্য রেখে আকার-ইঙ্গিতে অভিযোগের তীর ছুড়ছেন চীনের দিকে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত করোনাকে বলছে ‘উহান ভাইরাস’ বা ‘চায়না ভাইরাস’। এবার আসা যাক বাস্তব চিত্রে— চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে চীনের ৪৬ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যার দরুন আকারের প্রশ্নে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্ অর্থনীতি একপ্রকার লন্ডভন্ড আর এসব জানা গেছে সেদেশের কর্পোরেট নিবন্ধন উপাত্ত থেকে।
অবসান বা নিঃশেষ হয়ে গেছে বলতে সেসব ব্যবসাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে, অধিকন্তু যারা নিজেরাই তাদের কার্যক্রমের চূড়ান্ত ইতি টেনেছে, এর মধ্যে ২৬ হাজারই রপ্তানি খাতের। এগুলো জানিয়েছে বাণিজ্যিক উপাত্তসংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান তিয়ানিয়ানচা, সরকারি নথি সংকলন যাদের কাজের মধ্যে পড়ে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, একই সময়ে নতুন ব্যবসালয় প্রতিষ্ঠার গতিও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ, এ সময়ে চীনে ৩০ লাখ ২০ হাজার নতুন ব্যবসা শুরু হয়েছে, যা কি না গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম। নতুন খোলা কোম্পানিগুলোর অধিকাংশই অর্থনৈতিক শক্তির ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রগুলোয়। উদাহরণস্বরূপ চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংডং প্রদেশে, আর এগুলোর অর্ধেকই বিতরণ কিংবা খুচরা বিক্রয়সংক্রান্ত।
অর্থনীতিকে ফের চাঙ্গা করে তুলতে চীন যেখানে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সে জায়গায় অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়াটা সত্যিই তাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আরো খোলাসা করে বললে ১৯৭৬ সালের পর এই প্রথমবারের মতো তাদের অর্থনীতি প্রথম প্রান্তিকে সংকোচনের ঝুঁকিতে পড়ল। তবে আশার কথা হচ্ছে কোভিড-১৯ মহামারিকে তারা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। অভ্যন্তরীণ সরবরাহের ভাঙন প্রায় দূর করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে তারা। এসব বলেছেন ফরাসি ব্যাংক সোসাইটে জেনারেলের অর্থনীতিবিদ ইয়াও ওহেন ও মিশেল লাম।
সরবরাহ শৃঙ্খল প্রায় ঠিক হয়ে গেলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসের ক্ষতিটা অন্তত আরো কয়েক মাস স্থায়ী হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবার আগে চলে এসেছে যে প্রশ্নটা, সেটি হলো বহির্বিশ্বের অভিঘাত কীভাবে সইবে চীন? অন্য বড়ো অর্থনীতিগুলোর ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী লকডাউনের নেতিবাচক প্রভাব খুবই দ্রুত ও মারাত্মক আকারে হাজির হবে চীনা অর্থনীতিতে। বিদেশি অর্ডার বাতিলের হিড়িকে শেষ পর্যন্ত তাদের অর্থনীতি যে কোনো পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে, তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। পরিণতি কী হতে পারে, সেটি এখনকার ডংগুয়ান শহরের দিকে তাকালে কিছুটা নয়, বেশ ভালোই আঁচ করা যায়। শিল্পসংক্রান্ত তীর্থকেন্দ্র পার্ল নদীর বদ্বীপ ডংগুয়ান-এর দৃশ্যপটই বদলে গেছে। সারিবদ্ধ খালি দোকান, অধিকাংশ কারখানাতেই ঝুলছে তালা—অতিমন্দা আন্তর্জাতিক চাহিদার সঙ্গে সংগ্রাম করতে গিয়ে এ কয় মাসেই এই করুণ পরিণতি!
— সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট অনুসরণে
