‘আমরা ত্রাণ চাই না, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই। টেকসই বেড়িবাঁধ হলে আমাদের আর লবণ পানিতে ভাসতে হবে না। খেতের ফসল, সবজি আর ঘেরের মাছ দিয়েই আমাদের সংসার ভালোভাবে চলে যাবে। কারো কাছে হাত পাততে হবে না।’ চার বার বেড়িবাঁধ ভেঙে বাড়িঘর হারানো কয়রা উপজেলার ঘাটাখালি গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন সহকারী থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সত্তুর-ঊর্ধ্ব মোবারক আলী তার কষ্টের কথা এভাবেই বলছিলেন। তার মতো টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি ঘূর্ণিঝড় আইলা-আম্ফান বিধ্বস্ত কয়রাবাসীর।
সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবে খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় কয়রা উপজেলার ৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গত এক সপ্তাহ ধরে চারটি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তবে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, ইতিমধ্যে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আনুমানিক ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, কয়রা উপজেলায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪/১ নম্বর পোল্ডারে ২৭.৩৭ কিলোমিটার ও ১৩/১৪/২ নম্বর পোল্ডারে ৯১.৯৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। গত ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবে ৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এর মধ্যে ১৪/১ নম্বর ও ১৩/১৪/২ পোল্ডারের ২৫টি স্থান ভেঙে ৫.২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বড়ো ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১২.৭ কিলোমিটার বাঁধ ধসে গেছে। অপর দিকে, ৬৩টি স্থানে আংশিকভাবে ভেঙে ২১.১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়রা উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে কয়রা সদর ইউনিয়ন, উত্তর বেদকাশি, দক্ষিণ বেদকাশি ও মহারাজপুর ইউনিয়ন সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে উক্ত চারটি ইউনিয়নের ২ লক্ষাধিক মানুষ লবণ পানিতে বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া বাকি তিনটি ইউনিয়নও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম বলেন, আইলার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আন্দোলন ধূলিসাত্ করে দিয়েছে আম্ফান। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে এখন কয়রার মানুষকে এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না। কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হলে কয়রাবাসীকে আর লবণ পানিতে ডুবতে হবে না। কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, আম্ফানে বেড়িবাঁধ ভেঙে কয়রা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ লবণ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। টেকসই বাঁধ নির্মাণ হলে কয়রাবাসীর দুঃখ ঘুচে যাবে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান জানান, কয়রা উপজেলায় ১২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে গত ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবে ৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
