করোনাকালে ভার্চুয়াল কোর্ট

আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ২১:৫৪

মো. আবদুল মালেক

 

বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতির প্রবর্তন যুগান্তকারী একটি ঘটনা। তবে তা পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া মুক্তবাজার অর্থনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্তের অনুরূপ। তারপরও বিজ্ঞ জাজ সাহেব, কোর্টের অন্যান্য কর্মচারী এবং আইনজীবীরা ভালোই দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। অসন্তোষজনক কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে পদ্ধতিটিকে সফল করার জন্য কিছু কিছু বিষয়ের প্রতি মাননীয় প্রধান বিচারপতিসহ বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দ, সিনিয়র আইনজীবী ও সিস্টেম আপডেটকারী  ডেভলপারদের লক্ষ রাখা প্রয়োজন। যেমন ভার্চুয়াল কোর্টে জামিনের আবেদন করতে, নতুন হলে আসামির জামিনের আবেদন ফরম অপশনে ক্লিক করলে জামিন আবেদন ফরম তৈরি হয়। যার প্রথম ধাপে কোর্টের ধরন নির্ধারণ করে দিতে হয় (যেমন, জেলা জজ আদালত, মহনগর দায়রা জজ আদালত, মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত ইত্যাদি)। দ্বিতীয় ধাপে কোর্টের নাম নির্ধারণ করে দিতে হয় (যেমন, জেলা জজ, ঢাকা, মহনগর দায়রা জজ, ঢাকা, মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত, ঢাকা ইত্যাদি)। কিন্তু বিশেষ আদালতগুলোতে জামিন আবেদন করতে গেলে প্রথম ধাপ ঠিক থাকলেও দ্বিতীয় ধাপে কোর্টের নাম নির্ধারণ করা (যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০২, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০৪ ইত্যাদি); এর কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে ট্রাইব্যুনালগুলোতে ভার্চুয়াল সফটওয়্যারের মাধ্যমে জামিনের আবেদন করা যায় না। বিকল্প হিসাবে বিশেষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালগুলো দয়া করে যোগাযোগ করার জন্য তাদের নিজেস্ব ই-মেইল অ্যাড্রেসসহ পেশকার বা অন্য কর্মচারীদের মোবাইলফোন নম্বর দিয়েছেন।

আমরা ভুক্তভোগী আইনজীবী কিংবা জামিন প্রার্থীগণ ঐ ই-মেইল অ্যাড্রেসে জামিনের আবেদন করি। কিন্তু দেখা যায় প্রভাবশালী দু-চারজন আইনজীবী ও কোর্টের কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ব্যতীত সাধারণ আইনজীবীদের শুনানির তারিখ নির্ধারণ হয় না। এমনকি ই-মেইলের মাধ্যমে প্রেরিত জামিন আবেদন জাজ সাহেবদের সম্মুখে উপস্থাপিত হয় না। উদাহরণ হিসাবে বলতে পারি—গত ১৭-৫-২০২০ তারিখে আমি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-০৪, মানব পাচার মামলা নং ০১/২০, (যা এখনো ঐ আদালতেই রয়েছে, ট্রান্সফার করা হয়নি); জামিন আবেদন করি), কিন্তু এখন পর্যন্ত ঐ আবেদন না মঞ্জুর কিংবা শুনানির তারিখ পাইনি, (অথচ সরকার ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতির অনুমোদন দিয়েছে জামিন শুনানির জন্য)। এর মূল কারণ ই-মেইলের মাধ্যমে প্রেরিত জামিন আবেদনগুলো ডাউনলোড করেন পেশকার বা স্টেনোগ্রাফার বা পিয়ন। এক্ষেত্রে কোন ই-মেইল কোন দিন এসেছে, তা তদারকি করার কোনো উপায় নেই। আবার জামিন শুনানির পর জামিনের আদেশ হলে ঐ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বেল বন্ড আপলোড নেয় না। ফলে বেল বন্ড মেনুয়্যালি হয় জিআর শাখায় নতুবা এজলাসে পেশকারের কাছে বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে জমা দিতে হয়। এতে একদিকে যেমন আইনজীবীদের আদালতে আসতেই হচ্ছে, এজলাসে ও জিআর-এ দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে, অন্যদিকে তাঁদের করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের সম্ভাবনাও থাকছে। ফলে ভার্চুয়াল পদ্ধতি উন্নয়নের মহত্ উদ্দেশ্য ম্লান হচ্ছে। অথচ ভার্চুয়াল পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা বা জটিলতা দূর করতে পারলে সেটা হতে পারে একটি স্থায়ী সমাধান। বিশেষ করে নিম্ন আদালত থেকে বিচারিক আদালতে মামলা ট্রন্সফারের যে দীর্ঘসূত্রতা তা দূর করতে ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে।

অ্যাডভোকেট, জাজ কোর্ট, ঢাকা