ক্রিকেট ফেরানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বিসিবি

আপডেট : ৩০ মে ২০২০, ২০:৪৫

 ‘আমরা দেখব দেশের অবস্থা কী। তারপর আমরা ঐভাবে প্লেয়ারদের ডাকব। যারা অন্য দেশ কার্যক্রম শুরু করছে বলছেন, তারা আইসিসির গাইডলাইন মেনেই করছে। আমরা তো গাইডলাইনের বাইরে না। আমরাও আইসিসির গাইডলাইন দেখে শুরু করব।’

 স্পোর্টস রিপোর্টার

ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ভেন্যুতে স্টুয়ার্ট ব্রড, জেমস অ্যান্ডারসনদের বোলিংয়ের ভিডিও প্রতিনিয়তই দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ অব্যাহত থাকলেও আইসিসির গাইডলাইন মেনে ক্রিকেটারদের একাকী অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা।

করোনা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলেও বাংলাদেশে গতকাল শেষ হয়েছে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি। নতুন করে আর ছুটি বাড়ছে না। গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি, বেসরকারি অনেক অফিস আগেই খুলেছে। নতুন করে গণপরিবহনও চালু হচ্ছে। বাস, ট্রেন, নৌযান নামছে রাস্তায়। অন্য সব কিছুর মতো করোনার কারণে গত ২২ মার্চ থেকে বন্ধ ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিস। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অবস্থিত বিসিবি কার্যালয়ের স্থবিরতা কিছুটা হলেও হ্রাস পাচ্ছে আজ থেকে।

সীমিত পরিসরে আজ সচল হচ্ছে বিসিবি কার্যালয়। করোনার কারণে বাসা থেকে প্রাত্যহিক কাজ সম্পন্ন করা বিসিবির কর্মীরা এখন থেকে অফিসে ফেরা শুরু করবেন। এখানেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। গতকাল বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিসিবি কার্যালয় খুললেও এখনই মিরপুর স্টেডিয়ামে জিম, অনুশীলনের সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন না ক্রিকেটাররা। কবে থেকে ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করতে পারবেন, তার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণও ঠিক হয়নি। তবে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আছে বিসিবি।

যার অংশ হিসেবে ঈদের পর থেকেই স্টেডিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জীবাণুমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ চলমান থাকবে। দেশের করোনা পরিস্থিতিতে চোখ রেখে একটা সময় সব সুযোগ-সুবিধা ক্রিকেটারদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।

ক্রিকেটাররা কবে থেকে মিরপুর স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন জানতে চাইলে গতকাল সংবাদমাধ্যমকে বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘আমাদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। আমরা কোনো কিছু নিয়েই তাড়াহুড়ো করতে পারবো না। বিভিন্ন দেশ কার্যক্রম শুরু করছে, আমরাও নিশ্চয়ই করবো। তবে এজন্য এখনই সুনির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারবো না। আমাদের যেসব জিনিস ট্রেনিংয়ের সময় লাগবে সেগুলো আমরা ঈদের পর থেকেই জীবাণুমুক্ত করার কাজ করছি। এটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। এটা একসময় শেষ হয়ে যাবে। তখন আমরা বুঝতে পারবো আমাদের সবকিছু ক্রিকেট পুনরায় শুরু করার জন্য প্রস্তুত।’

আইসিসির গাইডলাইন অনুসরণ করবে বিসিবি। প্লেয়ারদের স্বাস্থ্যের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে উল্লেখ করে নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘আমরা দেখব দেশের অবস্থা কী। তারপর আমরা ঐভাবে প্লেয়ারদের ডাকবো। যারা অন্য দেশ কার্যক্রম শুরু করছে বলছেন, তারা আইসিসির গাইডলাইন মেনেই করছে। আমরা তো গাইডলাইনের বাইরে না। আমরাও আইসিসির গাইডলাইন দেখে শুরু করব। আমরা শুধু দেখব তাদের পরিকল্পনাটা কি। এটা একটু আমাদের দেখার বিষয় আছে। কারণ আমরা কোনোভাবেই প্লেয়ারদের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারব না। কারণ প্লেয়াররা বিসিবির কাছে খুব মূল্যবান সম্পদ।’