স্পোর্টস রিপোর্টার
সাবেক এই তারকা ফুটবলারের মৃত্যু দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শোকার্ত করে তুলেছে। ২০০৮ সালে বাফুফের সদস্য ছিলেন তিনি। হেলালের মরদেহ বাফুফেতে নেওয়া হলে কর্মকর্তারা সম্মান জানিয়ে ফুল দেন। সেখানে বাফুফের পতাকায় ঢেকে দেওয়া হয় তার মরদেহ এবং জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল শোক জানিয়েছেন। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আবাহনী, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসো-সিয়েশনের সভাপতি, মহাসচিবসহ অন্যরাও শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছে।
চলে গেলেন ফুটবলার গোলাম রাব্বানী হেলাল
স্পোর্টস রিপোর্টার
ডাক্তাররা আগেই আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তারপরও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল সাবেক ফুটবলার ও আবাহনীর পরিচালক গোলাম রাব্বানী হেলালকে (৬৫)। গত বৃহস্পতিবার সকালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গতকাল দুপুরে হেলালকে মৃত ঘোষণা করা হয় (ইন্না লিল্লাহে ... রাজিউন)।
গোলাম রাব্বানী হেলালের মৃত্যুতে শোকাহত দেশের ক্রীড়াঙ্গন। বিকালে আবাহনী টেন্টে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আবাহনীর পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় কফিন। আবাহনীর পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ, সাবেক ফুটবলার আনোয়ার, শেখ মো. আসলাম, খুরশিদ বাবুল, জোসী, ইকবাল, আলমগীর, মাসুদ রানা, কায়সার হামিদ, গোলকিপার মামুন, হকি কোচ মাহবুব হারুনসহ অনেকে উপস্থিত হন। আসলামের রুমমেট ছিলেন হেলাল। আসলাম বললেন, ‘শবেবরাতের রাতে হেলাল আমাকে নিয়ে রিকশায় সারারাত ঘুরে ঘুরে গরিব দুঃখী মানুষকে সাহায্য করত। ওতো ছোটোবেলায় মা বাবা হারিয়েছে। দুঃখটা সে বুঝত।’ এক সঙ্গে ফুটবল খেলেছেন আনোয়ার, জেলও হয়েছিল মাঠের ঘটনায়। চোখের সামনে হেলালের চলে যাওয়ায় কষ্ট পেয়েছে খুরশিদ বাবুল। বলছিলেন কতো স্মৃতি, বলে শেষ হবে না।’ আরেক সাবেক ফুটবলার আনোয়ার বললেন, ‘ওরতো ওপেন হার্ট হয়েছিল, কিডনিতে সমস্যা ছিল। গত কয়েক মাস প্রতিদিনই ক্লাবে আসত। এখন আর আসবে না।’ জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকা মরিয়ম তারেক বলেন, ‘হেলাল ভাই বরিশালের ছেলে। আমারও বিয়ে হয়েছে বরিশালে। অনেক সম্মান করতেন তিনি। ব্যাডমিন্টন প্রয়োজনেও পাশে থাকতেন।’ হেলালের দুই কন্যা। বড়ো মেয়ে আশ্বিন রাব্বানী কাল আবাহনীতে বাবার জন্য দোয়া চাইলেন। হেলালের মরদেহ বাফুফেতে নেওয়ার আগে মোহামেডান, আবাহনী কেন্দ্রীয় সমর্থকগোষ্ঠী, আসলাম, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা গাফফারের পক্ষ হতেও ফুল দেওয়া হয় কফিনে। জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় জাতীয় দলের এই সাবেক ফুটবলারকে।
আলোচিত ফুটবলার ছিলেন হেলাল
স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশের ফুটবলে ব্যাপক আলোচিত এক ফুটবলার গোলাম রাব্বানী হেলাল আবাহনীতে খেলতে শুরু করেন ১৯৭৫ সালে। ১৯৭৭ সালে লিগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।
আবাহনীর নানু্নকে ১৯৭৮ এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলের অধিনায়ক করা হলেও পরে বাদ দিয়ে মোহামেডানের গোলকিপার শহিদুর রহমান সান্টুকে করা হয়। প্রতিবাদে আবাহনীর ছয় ফুটবলার আনোয়ার, চুন্নু, অমলেস সেন, হেলাল এবং কাজী সালাহউদ্দিন এশিয়ান গেমসে যাননি। পরে তাদের ছয় মাস সাসপেন্ড করা হলেও স্বল্প সময়ে সেটা তুলেও নেওয়া হয়। আরেক ঘটনা তো বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে ঘৃণ্য অধ্যায়। তখন ১৮ দলের প্রথম বিভাগ লিগে সেরা আটটি সুপার লিগে খেলত। ৮২ সালে সুপার লিগে মোহামেডানের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে আবাহনী। আনোয়ারের গোল নিয়ে বিতর্ক হলে রেফারির সঙ্গে মারামারি হয় আবাহনীর ফুটবলারদের। সেই ঘটনার জেরে সালাহউদ্দিন, হেলাল, চুন্নু, গাফফার, আনোয়ারদের জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। হেলাল ১৯৭৮ সালে এশিয়া যুব ফুটবল খেলে ৭৯তে জাতীয় দলে ঢোকেন। একবার বিজেএমসিতে খেললেও পুরো ক্যারিয়ারই আবাহনীতে খেলেন তিনি। ৭ নম্বর জার্সি গায়ে আবাহনীর ফরোয়ার্ড লাইনে কাজী সালাহউদ্দিনের জুটি ছিলেন হেলাল। বয়সে সালাহউদ্দিন বড় হলেও মাঠের বাইরে দুজন ছিলেন পরম দুই বন্ধু। সভাপতি এসএ সুলতানের সময়ে বাফুফের জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব পালন করেন তারা। তারাই তখন জাতীয় দলের কোচের বেতন দিতেন। সালাহউদ্দিনকে বাফুফের সভাপতি করতে বড় ভূমিকা রাখলেও পরবর্তীতে দুজনের সম্পর্কে ফাটল ধরে। আর জোড়া লাগেনি।
