জলাবদ্ধতা দূর হবে কসাইবাড়ি আশকোনা ও কাউলার

আপডেট : ৩০ মে ২০২০, ২১:২৩

বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি পার হয়ে আশকোনা-কাওলা, কসাইবাড়ি এলাকায় মানুষের যাতায়াত করতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। ‘এডি-৮ খালের’ বিভিন্ন অংশ ভরাট হওয়ায় এমন জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। খালটি খনন হলেই নিরসন হবে এই এলাকার জলাবদ্ধতা। যার কারণে সিভিল এভিয়েশনের কবরস্থান এলাকায় (লা মেরিডিয়ান হোটেলের বিপরীত পাশে) এডি-৮ খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

গতকাল শনিবার মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম খাল খনন উদ্বোধন করেন। খালটির প্রকৃত মালিক সিভিল এভিয়েশন। তারপরেও এটি খননের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। খালের প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এটি খনন করে প্রায় ২৭ হাজার কিউবিক মিটার মাটি উত্তোলন করা হবে বলে জানা গেছে। খনন শেষ হলে আশকোনা হজ ক্যাম্পের পাশ থেকে শুরু করে বনরূপা হাউজিং পর্যন্ত ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের বিভিন্ন জায়গায় পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দূর হবে এবং কসাইবাড়ি, আশকোনা, কাউলা, বনরূপা হাউজিং এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যাবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার খালটির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন মেয়র। তিনি তখন এক সপ্তাহের ভেতর খাল খননের ঘোষণা দেন। এর পরেই গতকাল তিনি এটির খননকাজ উদ্বোধন করেন। এই সময় মেয়র বলেন, বৃষ্টি হলেই আশকোনা, প্রেমবাগান, হজ ক্যাম্পের সামনে পানি জমে যায়। ঢাকার এ অংশটি একেবারে অপরিকল্পিত, যে যার মতো করে বাড়ি, হাউজিং ইত্যাদি করে নিয়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথ নিয়ে চিন্তা করেনি। হাউজিং কোম্পানিগুলো বিভিন্ন সিটি করছে, বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, কিন্তু পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো কাজ করেনি।

এ খালটি সিভিল এভিয়েশনের উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এই খাল খনন করে দেওয়ার জন্য সিভিল এভিয়েশনকে বারবার অনুরোধ করেছি। তারা বলছে, আমরা করতে পারবো না, আপনারা করে দিন। মেয়র বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, জায়গা সিভিল এভিয়েশনের, খাল সিভিল এভিয়েশনের, অথচ কাজ করে দিতে হবে সিটি করপোরেশনকে! এ সময় ওয়াসার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ওয়াসা ড্রেন ঠিকমতো পরিষ্কার না করার কারণে মগবাজারের সাতবাড়ি, মধুবাগ এলাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ জনগণ বারবার সিটি করপোরেশনকেই ধরছে। ওয়াসা ও সিভিল এভিয়েশনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা দায়িত্ব নিন অথবা আমাদেরকে তহবিল দিন। আমরা কাজ করতে চাই। আপনারা দায়িত্ব নিবেন না, টাকা আপনাদের কাছে রেখে দেবেন, এটা হয় না।

তিন মাস ধরে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে। এ ধরনের কাজ করতে গেলে প্রচুর টাকা লাগে। তারপরও আমরা অপেক্ষা করিনি। এই খাল আমাদের যা কিছু আছে তা দিয়েই খনন করতে শুরু করেছি। খাল খনন উদ্বোধনের সময় অন্যদের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান নাঈম ও ডি এম শামীম উপস্থিত ছিলেন।