শয্যার সংকটে ফ্লোরে রোগীরা

আপডেট : ৩০ মে ২০২০, ২১:৩২

চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বেড়েই চলেছে। চট্টগ্রামে করোনা রোগী ইতিমধ্যে ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে করোনার চিকিত্সার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে রোগীর জায়গা হচ্ছে না। অপ্রতুল চিকিত্সা সুবিধার কারণে আক্রান্ত রোগীদের সেবা পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। করোনা চিকিত্সার জন্য সরকারিভাবে হাসপাতালের পরিধি বাড়ানোর কথা বলা হলেও তার কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। অধিগ্রহণকৃত হাসপাতালে নতুন করে অবকাঠামো সুবিধা নির্মাণ করতে হচ্ছে।

চট্টগ্রামে বিআইটিআইডি, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ভাইরাস শনাক্তের ল্যাব রয়েছে। এসব ল্যাবে প্রতিদিন শতশত মানুষ নমুনা পরীক্ষার জন্য ভিড় জমাচ্ছে। কিন্তু জনবল ও প্রযুক্তিগত অসুবিধার কারণে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে রিপোর্ট পেতে কয়েক দিন সময় লাগছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহের জন্য নগরীতে আরো অস্থায়ী ভিত্তিতে বুথ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ব্র্যাকের সহযোগিতায় নগরীতে ছয়টি বুথ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কার্যক্রম শুরু হবে। সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রামে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। ব্র্যাকের সার্বিক সহযোগিতায় ছয়টি বুথ বসানো হচ্ছে।’ চট্টগ্রামে এখনো করোনা রোগীর চিকিত্সা সুবিধা অপ্রতুল। রোগী অনুপাতে সুবিধা বাড়েনি। সরকারিভাবে উদ্যোগের কথা বলা হলেও তার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক দিন সময় লেগে যাচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এই তিনটি হাসপাতালের মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ ও ১০০টি আইসোলেশন বেড রয়েছে। অন্য দুটিতে শুধু ৮০টির মতো আইসোলেশন বেড রয়েছে। অথচ চট্টগ্রামে করোনা রোগী ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চট্টগ্রামে বেসরকারি ১২টি হাসপাতাল করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিঠি দিলেও সাড়া মিলেনি। তারা নগরীর খুলশী এলাকায় কয়েক বছর যাবত্ পরিত্যক্ত থাকা হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য মেরামত করে দিচ্ছে। এতে চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ চিকিত্সা ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে করোনা রোগীর জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে রোগীর জায়গা হচ্ছে না। চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য ৫০টি বেড রয়েছে। এতে রোগীর সংকুলান হচ্ছে না। ফ্লোরে রোগী রাখতে হচ্ছে।’

এর বাইরে চট্টগ্রামে বেসরকারি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য সরকারিভাবে অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এখানে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের নতুন একটি ভবনে চিকিত্সাসেবা পরিচালনার জন্য ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ সাড়া দিয়েছে। এখানে ১০০টির মতো আইসোলেশন বেড করা যাবে। তবে এটিতে শুধু পুলিশ সদস্যদের চিকিত্সার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটির কাছে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ২৫/৩০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ইত্তেফাককে বলেন, ইউএসটিসি ও ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিগিগরই চুক্তি সম্পন্ন হবে। চিকিত্সার জন্য প্রস্তুত করতে কিছুদিন সময় লাগবে। রোগীর চাহিদা অনুপাতে নমুনা সংগ্রহের জন্য আরো বুথ বাড়ানো হবে।’বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিত্সা কার্যক্রম পরিচালনা সম্পর্কে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের চিকিত্সক ও স্বাস্থকর্মীদের সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। না হয় ওখানে কর্মরত চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করবে না।’