অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ

আপডেট : ৩০ মে ২০২০, ২১:৩৭

টাকার আবার রং কী! টাকা সাদা না কালো—ইহা লইয়া বিতর্ক অনেক পুরোনো। টাকার বৈধতা ধরিয়া রাখিতে টাকাকে সাদা বা কালো বলিয়া আখ্যা দেওয়া হইত; কিন্তু আদতে যেই টাকার কর দেওয়া হয় নাই, সেই টাকাকেই কালো টাকা হিসাবে বলার প্রচলন ছিল। ইতিপূর্বে ইহার কিছু আধুনিকীকরণ করিয়া ‘কালো’ শব্দটি বাদ দিয়া বলা হইয়াছে ‘অপ্রদর্শিত’ অর্থ। মানে, আয়কর রিটার্নে যে অর্থ প্রদর্শন করা হয় নাই, তাহাই অপ্রদর্শিত অর্থ। সাধারণত, অবৈধ পন্থায় অর্জিত টাকা আয়ের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ না হইবার কারণে আয়কর ফাইলে প্রদর্শন করা সম্ভব হয় না। সেই টাকাকেই কালো বা অপ্রদর্শিত অর্থ বলা হইত। হাল আমলে দেখা গিয়াছে, বৈধভাবে অর্জিত অর্থও কোনো কারণে সরকারের কাছে ঘোষণা দেওয়া যায় নাই। ফলে, উহাকে কালো বা অবৈধ বলা সমীচীন হইবে না বিবেচনায় লইয়া ইহাকে অপ্রদর্শিত অর্থ বলা হইয়াছে। তবে যাহারা টাকার রং লইয়া চিন্তিত নহে, বরং ‘চঞ্চলা টাকাকে আঁচলে রাখা’র বিরোধী—তাহাদের মতে টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিলেই বরঞ্চ লাভ বেশি। ইহাতে কর্মসংস্থান বাড়িবে। জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়িবে। অন্যথায়, এই টাকা পাচার হইয়া যাইবে। বিশ্বের বহু দেশ রহিয়াছে, যেই সকল দেশে বিনিয়োগের জন্য সকল বাধা মুক্ত করা হইয়াছে।

বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে যখন অর্থনীতির অবস্থা সঙ্গিন, তখনই অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের জন্য অবারিত সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত লইয়াছে সরকার। নূতন বত্সরের বাজেটে তাহার ঘোষণা আসিবে। আগেও সুযোগটি ছিল, তবে এইবারে কিছুটা পরিবর্তন করা হইয়াছে। বর্তমানে ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়া অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ রহিয়াছে। অনেক দিন হইতেই এই সুযোগটি বিদ্যমান। অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর পরিশোধ করিয়া অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাইত। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফাইন্যান্স ফান্ডের (বিআইএফএফ) অধীনে বন্ড ক্রয়ের ক্ষেত্রেও সুযোগটি বহাল রহিয়াছে। নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আবাসন খাতে (ফ্ল্যাট, প্লট ক্রয়) বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিমাণ কর পরিশোধে এ সুযোগ দিয়াছিল সরকার। যে কোনো ব্যক্তি প্রযোজ্য কর পরিশোধ করিয়া ঐ করের উপর আরো ১০ শতাংশ জরিমানা দিলে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ হইয়া যাইত। নূতন অর্থবত্সর হইতে ১০ শতাংশ কর দিয়া বিনিয়োগ করা যাইবে; কিন্তু প্রশ্ন হইতেছে, অতীতে সুযোগ থাকিলেও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ হয় নাই। তাহার কারণ, কেহ কেহ অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করিয়া ঝামেলায় পড়িয়াছেন। আয়কর বিভাগে নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হইয়াছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় তাহারা করদাতাকে প্রশ্ন করিতে পারিতেন। ফলে, ভয়েই অনেকে সুযোগটি গ্রহণ করিতেন না। এইবারে নূতন যে উদ্যোগ অর্থমন্ত্রী লইয়াছেন, ইহার পাশাপাশি তাহাকে অপরাপর প্রশ্নগুলির সমাধান দিতে হইবে। তাহা হইলে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ বাড়িবে। তাহা না হইলে কেহই এই ঝামেলায় পড়িতে যাইবেন না। তাই নূতন এই সিদ্ধান্তের সুফল পাইতে হইলে করদাতাকে অন্যান্য ঝামেলামুক্ত থাকিবার ব্যবস্থাও লইতে হইবে।