৬৭টি দিন বন্ধ থাকার পর আগামীকাল সোমবার থেকে চলবে বাস। তবে বাসযাত্রীদের গুনতে হবে ৮০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া। আর বাসের এই ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মানার অজুহাতে বাসের ভাড়া বাড়ানো হলেও আগামীতে পরিবহন মালিকরা আর এ ভাড়া কমাবেন না। অতীতেও নানা অজুহাতে তারা ভাড়া বাড়িয়েছে, কিন্তু আর প্রত্যাহার করেনি। তবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই পূর্বের নিয়মে ভাড়া আদায় করা হবে।
প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস সংকটের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে গণপরিবহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক আদেশে সীমিত আকারে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন মালিকদের ভাড়া বাড়নোর দাবির মুখে বাসের ভাড়া ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বাস-মিনিবাস ও আন্তঃজেলা সব ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে জানিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি। তবে প্রতিটি বাসে আসনের অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী বহন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। গতকাল শনিবার বিআরটিএর ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিআরটিএর কর্মকর্তা ছাড়াও মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ভাড়ার তালিকা তৈরি করা হবে জানিয়েছে বিআরটিএ।
এদিকে এভাবে ভাড়া বাড়ানোকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারির এই সংকটকালে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অজুহাতে নিদারুণ আর্থিক সংকটে থাকা দেশের অসহায় জনগণের জন্য গণপরিবহনের ভাড়া এক লাফে ৮০ শতাংশ বাড়ানোয় সড়কে নৈরাজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি অনতিবিলম্বে এই ভাড়া প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যমান ভাড়ায় জনসাধারণকে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
বিআরটিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইউছুব আলী মোল্লা বলেন, যেহেতু দুই জনের জায়গায় আপনি একজন যাচ্ছেন, ৫০ জনের জায়গায় ২৫ জন যাচ্ছেন তাহলে এই ভাড়াটা তো তাকে দিতেই হবে। এই ভাড়া করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়ানো হয়েছে। এটা সব যাত্রী ও মালিকদের মেনে নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ভাড়া ৮০ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে সুপারিশ প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। ১ জুন থেকে পরিবহন মালিকরা বাস চালানো শুরু করবেন। এর আগেই মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানান তিনি। এছাড়া দেশে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান ।
বাড়তি ভাড়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই এ বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে এবং পূর্বের নির্ধারিত ভাড়াতেই বাস চলাচল করবে। সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির সহসভাপতি আবুল কালাম বলেন, যাত্রীরা মাস্ক নিয়ে না আসলে বাস মালিক কর্তৃপক্ষ তা সরবরাহ করবে। চালকদের পিপিই দেওয়া হবে।
সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে পরিচালিত ঢাকা-কোম্পানীগঞ্জ রুটের তিশা পরিবহনের পরিচালক খন্দকার ওমর ফারুক বলেন, যেহেতুে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করা হবে, তাই ভাড়া বৃদ্ধি তো হবেই।
ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্বাস উদ্দিন বলেন, এতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেহেতু অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হবে তাই ভাড়া দ্বিগুণ করা উচিত ছিল।
