৬৮ দিন বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল। ট্রেন ও লঞ্চের যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়াতেই চলাচল করতে পারবেন। ঢাকা থেকে আট জোড়া ট্রেন চলাচল করবে। ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে। কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হবে না।
এ ব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে বিভিন্ন রুটে আট জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল কববে। আগামী ৩ জুন থেকে আরো ১১ জোড়া ট্রেন চালু হবে। টিকিটের দাম বাড়বে না। সেক্ষেত্রে আমরা ধারণা করছি রেলে যাত্রীর চাপ বাড়বে। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন বিমানবন্দর রেল স্টেশন, জয়দেবপুর ও নরসিংদী রেল স্টেশনে থামবে না।
রেলপথ মন্ত্রী বলেন, রেল সরকারি সেবামূলক পরিবহন। তাই আমরা এখানে কোনো ভাড়া বাড়াব না। আগের ভাড়াই চলবে। এ কারণে রেলের যাত্রী বেড়ে যাবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্যই ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হবে। সব টিকিট অনলাইনে দেওয়া হবে। ট্রেন ছাড়ার এক ঘণ্টা আগে যাত্রীকে স্টেশনে পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনের বালিশ, কাঁথা এগুলো দেওয়া হবে না। তাছাড়া করোনার এই সময় ট্রেনে কোনো ধরনের খাবার সরবরাহ করা হবে না।
ট্রেনের যাত্রীদের উদ্দেশে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ট্রেনে যাত্রা করার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রী ট্রেনে উঠবেন না। সবাইকে কমলাপুর স্টেশন থেকে উঠতে হবে।
প্রথম দফায় রবিবার থেকে যেসব রুটে চলবে আন্তঃনগর ট্রেন সেগুলো হলো, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, সোনারবাংলা এক্সপ্রেস, উদয়ন/পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম), লালমনি এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস।
এছাড়া দ্বিতীয় দফায় আগামী ৩ জুন থেকে চালু করা হবে আরো ৯টি আন্তঃনগর ট্রেন। সেগুলো হলো—তিস্তা এক্সপ্রেস, বেনাপোল এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, রূপসা এক্সপ্রেস, কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, মধুমতি এক্সপ্রেস মেঘনা এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস।
ঢাকা-বরিশালসহ ৩৪ জেলায় চলবে লঞ্চ
করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার থেকে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে ঢাকা-বরিশালসহ ৩৪ জেলায় লঞ্চ ও স্টিমার চলাচল শুরু হচ্ছে। গ্রীন লাইন ওয়াটার সার্ভিস ঢাকার লালকুঠি থেকে সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হবে। এরপর ঢাকা থেকে চাঁদপুর ও শরীয়তপুরগামী সকল লঞ্চ চলাচল শুরু হবে। বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরের উদ্দেশে লঞ্চ ঢাকা ত্যাগ করবে। সন্ধ্যা ৬টায় সরকারি স্টিমার মধূমতি বাদামতলী ঘাট থেকে বরিশাল, মোড়লগঞ্জ ও খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানান, লঞ্চ মালিক ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে লঞ্চ ও স্টিমার চালু করবে। এছাড়া ঢাকা, বরিশাল, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, মুলাদী, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভাণ্ডারিয়া, খুলনা ও মোড়লগঞ্জসহ ৩৪টি নৌরুটে নিয়মিত যাত্রীসেবায় নৌযান চলাচল করবে বলেও জানান তিনি।
এম ভি পারাবত লঞ্চ কোম্পানির মালিক শহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, করোনা মোকাবিলা ও এর বিস্তার রোধে যাত্রীদের দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে ধারণক্ষমতার চেয়ে অর্ধেক যাত্রী বহন করার জন্য লঞ্চের মাস্টার ও স্টাফদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো লঞ্চ মালিক ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বলেও জানান তিনি।
