করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরিভাবে বাংলাদেশের জন্য ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৬ হাজার ২২২ কোটি টাকা বিনা সুদে ঋণ অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে দ্রুত অর্থ ছাড় করা হবে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে শনিবার আইএমএফ জানিয়েছে, কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ব্যাপক হারে কমে গেছে। সেই সঙ্গে বিরূপ প্রভাব পড়েছে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বা ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ঠিক রাখা এবং বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনতে জরুরিভাবে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আইএমএফ উল্লেখ করেছে, এই ঋণ বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ সামাজিক নিরাপত্তা আরো জোরদার এবং অর্থনীতিকে সঠিক পথে রাখতে যে প্রণোদনা কর্মসূচি নিয়েছে, তা বাস্তবায়নের পথ সহজ হবে।
উল্লেখ্য, করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর সদস্য দেশগুলোকে সহায়তার জন্য র্যাপিড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (আরসিএফ) তহবিল গঠন করে আইএমএফ। এই তহবিল থেকে বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ঋণের দুই কিস্তি এক বছরের মধ্যেই ছাড় করা হবে এবং তিন বছরের মধ্যে বাকি অর্থ ছাড় হবে। আরসিএফ তহবিলের ঋণ সাড়ে পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ ১০ বছরে পরিশোধ করতে হবে।
আইএমএফ বিবৃতিতে বলেছে, কোভিড-১৯-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সংস্কার আনার চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, যা বিনিয়োগ বাড়ানোর পূর্বশর্ত। আইএমএফ বলেছে, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সরকার বাস্তবায়নে কী করছে, তা ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখবে আইএমএফ।
আইএমফের ডেপুটি ম্যনেজিং ডিরেক্টর এন্থনি সাইয়ে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান দুই খাত তৈরি পোশাকশিল্প ও রেমিট্যান্স এই করোনার প্রভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইএমএফের সহায়তা বাংলাদেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট রক্ষা করতে সহায়তা করবে।
