কুড়িগ্রামে পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের উঠতি বোরো ধান। এ অবস্থায় কয়েক শ হেক্টর জমির আধা-পাকা ধান পানিতে তলিয়ে থাকায় তা ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। দ্রুত পানি নেমে না গেলে তলিয়ে থাকা এসব ধান সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এ অবস্থায় কৃষকরা পানিতে তলিয়ে থাকা কিছু ধান ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।
কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্র?হ্মপুত্র ও দুধকুমর নদের অববাহিকার প্রায় ২ শতাধিক চরে বোরোর আবাদ করেছেন কৃষকরা। এসব এলাকায় দেরিতে ২৯ জাতের বোরো ধান চাষ করায় তা এখনো ঘরে তুলতে পারেননি বেশির ভাগ কৃষক। এবারে আগাম বর্ষা শুরু হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে চরাঞ্চলে বোরো চাষিদের এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন কৃষকরা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পোড়ার চর, মাঝিয়ালির চর, বড়ুয়া, রলাকাটা, ভগবতীপুর, পারবতীপুর, ঝুনকার চর, নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর, কালার চর, অষ্টআশির চর, উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা, জাহাজের আলগা, দুই খাওয়া, আইরমারীসহ রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার প্রায় ২ শতাধিক চর ও নিম্নাঞ্চলে আবাদকৃত বোরো ধানের বেশির ভাগই পানির নিচে তলিয়ে আছে। যাত্রাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য শাহা জামাল জানান, ‘কয়েক দিন ধরে ধান পানির নিচে থাকায় তা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।’ কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার জানান, ‘চরাঞ্চলগুলোর কৃষকরা যে বোরো আবাদ করেছেন পানি আসার আগে তার অর্ধেকও ঘরে তুলতে পারেননি। এখন দ্রুত পানি নেমে না গেলে তলিয়ে থাকা ধান নষ্ট হয়ে যাবে।’
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান প্রধান জানান, ‘যে সব ধান দেরিতে লাগানো হয়েছে চরাঞ্চলের শুধু সেসব ধান খেত পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।’
