দৌলতদিয়া শিমুলিয়া ফেরিঘাটে কর্মমুখী মানুষের ঢল

আপডেট : ৩০ মে ২০২০, ২২:৫৩

শনিবার সকাল থেকে গোয়ালন্দ ও শিমুলিয়া ফেরিঘাটে ছিল কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড়। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি, চরম দুর্ভোগ আর অতিরিক্ত ভাড়া ব্যয় করেই কর্মস্থলে যাত্রা করেছেন তারা। রবিবার খুলে যাবে অফিস। তাই শেষ সময়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে গতকালও ছিল কর্মস্থলে ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বারখ্যাত দৌলতদিয়া ঘাটে ছিল ব্যক্তিগত ছোটো গাড়ি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ব্যাপক চাপ। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ লাইন। এছাড়াও অনেককেই মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকামুখী হতে দেখা গেছে। ফেরিগুলোতে ছিল না সামাজিক দূরত্ব, গাদাগাদি করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পারাপার হয় যাত্রীরা। তবে এ সময় ফেরিতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করছে থানা পুলিশ ও দৌলতদিয়া নৌপুলিশের সদস্যরা।

সরেজমিন শনিবার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে কর্মস্থলমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ভিড় জনসমুদ্রে পরিণত হয়। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও জীবন ও জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে গাদাগাদি করে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, ব্যাটারিচালিত অটোবাইক, মোটরসাইকেল ও মাহেন্দ্রযোগে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পুলিশ কাজ করছে। বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা মাহবুব হোসেন জানান, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোটো বড়ো ৯টি ফেরি চলাচল করছে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়?লে ফেরির সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। এছাড়া দৌলতদিয়া প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাকের কোনো সিরিয়াল নেই।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শনিবার সকাল থেকে শিমুলিয়ায় কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ছিল উপচে পড়া ভিড়। ভোরের আলো ফুটতেই ঘাটে আসতে শুরু করে লোকজন। লঞ্চ, স্পিড বোট, ট্রলার বন্ধ থাকায় ফেরিই এখন একমাত্র অবলম্বন। তাই গাদাগাদি করে হাজার হাজার মানুষ ফেরিতে করেই পদ্মা পারি দিচ্ছেন।  করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি, চরম দুর্ভোগ আর অতিরিক্ত ভাড়া ব্যয় করেই কর্মস্থলে যাত্রা করেছেন তারা। রবিবার খুলে যাবে অফিস। তাই শেষ সময়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। সকাল থেকে ১৫টি ফেরি দিয়ে সার্ভিস সচল রাখা হয়েছে। ফেরিগুলো হরদম পার করছে গাড়ি। এদিকে সকাল থেকে পদ্মা কিছুটা উত্তাল।  প্রচুর বাতাস রয়েছে। আজ দক্ষিণবঙ্গমুখী যাত্রীর চাপ কিছুটা কম। কাঠালবাড়ি থেকে ফেরিগুলো কানান কানায় পূর্ণ করে হাজার হাজার লোক নিয়ে শিমুলিয়ায় আসছে।

এদিকে এখনো সচল হয়নি গণপরিবহন। যাত্রীদের অবর্ণনীয় কষ্ট করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। তারা পদ্মা পাড়ি দিয়ে শিমুলিয়ায় এসে যানবাহন না পেয়ে পড়ছেন বিপাকে। ব্যাগ ছোটো ছেলেমেয়ে কোলে করে হেঁটে রওয়ানা দিয়েছেন কেউ কেউ। এছাড়া গাদাগাদি করে ৪-৫ গুণ বেশি ভাড়ায় সিএনজি, অটো, মোটরসাইকেল, পিকআপ, ট্রাক, ছোটো গাড়ি কিংবা মাইক্রোবাস ভাড়া করে গন্তব্যে রওয়ানা দিয়েছেন যাত্রীরা। এর বাইরে বড়ো ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করেও যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এরপরও আবার বিপত্তি ঘটায় ট্রাফিক পুলিশ। ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া ভাড়ার গাড়ি চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা ভাড়ার গাড়িগুলো আটকে দেয়। এতে যাত্রীরা ভয়াবহ যানবাহন সংকটে পড়ে।