দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবার চালু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। আগামীকাল সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ তিনটি রুটে বিমান চলাচল করবে। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুরে প্রতিদিন ২৪টি ফ্লাইট চলবে। তবে এখনই ভাড়া বাড়ছে না। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েই চালু হচ্ছে ফ্লাইটগুলো। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি ৪৫ মিনিট পরপর ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনেই বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে। একটি এয়ারলাইন্স সর্বোচ্চ ৭০ ভাগ যাত্রী বহন করতে পারবে। পাশাপাশি সিটে কাউকে বসানো যাবে না। এমনকি মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার এয়ারলাইন্সকে সরবরাহ করতে হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ উল-আহসান ইত্তেফাককে বলেন, এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিমানবন্দরে ঢুকতেই থার্মাল চেক করা হবে। সেখানেই নিজের ব্যবহার করা মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ফেলে এয়ারলাইন্সের দেওয়া নতুন মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরতে হবে। তার আগে ভালো করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। সেখানে থাকছে জুতোর তলা জীবাণুমুক্ত করার জন্য ফুটম্যাট বসানো। টার্মিনালে ঢোকার পর দাঁড়ানোর জন্য দূরত্ব পদচিহ্ন স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কাউন্টারে এয়ারলাইন্সের দায়িত্বপালনকারীদের জন্য প্লাস্টিকের প্রটেকশন গার্ড বসানো হচ্ছে। সব কাজ শেষ করার পর বসার জায়গায় একটি সিট বাদ দিয়ে বসতে হবে। সেভাবেই স্টিকার লাগানো হয়েছে। কোনো এয়ারলাইন্স যদি এগুলো মেনে না চলে তাদের অপারেশন বাতিল করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতার নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৫ মে থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। সেখানে সবকিছুই ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। বেশি কিছু ডিজিটাল ডিভাইস বসানো হয়েছে। কারো সঙ্গে হাতের স্পর্শ ছাড়াই যাত্রীরা বিমানে উঠতে পারছেন। সেখানে একজন থেকে আরেকজনের ৬ ফুট দূরত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো যাত্রী বিমানবন্দরে ঢোকার পর বোডিং কার্ডটিও বের হচ্ছে অটোমেটেড মেশিন থেকে। সেখানে কোনো যাত্রীকে হ্যান্ড লাগেজ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। কোনো ধরনের খাবারও সঙ্গে নিতে পারছেন না যাত্রীরা। বিমানেও দেওয়া হচ্ছে না খাবার। শুধু এক বোতল পানি। এভাবেই চলছে প্রতিদিন ৭৫ হাজার যাত্রী চলাচল করা বিমানবন্দরটি। তবে শুক্রবার কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে ৩ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেছেন।
শুধু হযরত শাহজালাল নয়, অন্য তিনটি বিমানবন্দরেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ উল-আহসান। এদিকে বিমান চলাচল শুরুর আগেই গতকাল শনিবার বিমানবন্দর পরিদর্শনে যান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। তিনি সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শন করে যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বাংলাদেশ বিমান ছাড়াও নভোএয়ার ও ইউএস বাংলার মোট ২৪টি ফ্লাইট চলবে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১১টি, সৈয়দপুরে ৯টি ও সিলেটে ৪টি ফ্লাইট চলবে। এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, যদি কোনো যাত্রীর শরীরে তাপমাত্র ৯৯ ডিগ্রী ফারেনহাইট থাকে তাহলে ঐ যাত্রীকে ফ্লাইটে নেওয়া হবে না। তবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে লাগেজ সংগ্রহের জন্য একটিমাত্র বেল্ট। ফলে সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লাগেজ সংগ্রহ কষ্টসাধ্য হবে বলে অনেকে মত দিয়েছেন। তবে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ উল-আহসান বলেন, একটি ফ্লাইটের লাগেজ না যাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্য ফ্লাইটের লাগেজ বেল্টে যাবে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টররা বিষয়টি দেখভাল করবেন।
প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ আকাশপথে এই তিনটি বিমান সংস্থা চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও বরিশালে প্রতিদিন ১৪০টির মতো ফ্লাইট পরিচালনা করত। এসব ফ্লাইটে প্রায় ১২ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করতেন।
