করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যে কোনো ধরনের বাড়তি সতর্কতা ছাড়াই আজ থেকে সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান চালু হচ্ছে। তবে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে আপাতত কোনো দর্শনার্থীকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর অফিস চালু হলেও কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। তারা বলছেন, করোনার সংক্রমণ যখন বাড়ছে তখন অফিস চালু হচ্ছে। জীবিকার প্রয়োজনে জীবনকে হাতে নিয়েই অফিসে যাবেন। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, সরকার বলছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস করতে। স্বাস্থ্যবিধি বলতে যা বোঝায় তা তো অফিসে নেই। ১৩ দফা নির্দেশনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাস্ক, জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে কি করোনা আটকে রাখা যায়। ফলে ঝুঁকি নিয়েই আমরা কাজে নামতে প্রস্তুত। তবে সচিবালয়ে কর্মরত একটি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, এতদিন ঘরে বসে থাকতে আর ভালো লাগছিল না। ফলে অফিস চালু হয়ে ভালোই হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সাধারণ ছুটি না বাড়িয়ে কঠোরভাবে বিধিনিষেধ মেনে ১৫ জুন পর্যন্ত অফিস খোলার এই অনুমতি দেয় সরকার। এর আগে ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল প্রথম দফায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর কয়েক দফায় সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ১৯ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে এর আগে গত ২৬ এপ্রিল থেকে ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সরকারের ১৮টি মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ও বিভাগগুলো খুলেছিল। এসব কার্যালয়ে কাজ চলছে সীমিত আকারে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন বলেছেন, জীবন ও জীবিকাকে সমন্বয় করে সরকার সব মানুষের কথা চিন্তা করে সীমিত পরিসরে অফিসসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা ১৫ দিনের পরীক্ষা। এ কারণেই এই ১৫ দিনের জন্য নতুন নিয়মে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সবাই।
অফিস খোলার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক আদেশে বলেছে, ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, অসুস্থ কর্মচারী এবং সন্তানসম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণের জন্য সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারিকৃত ১৩ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল থেকে কিছু মন্ত্রণালয়ে কাজ চলেছে। সেগুলো হচ্ছে— প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
