সিরাজগঞ্জে বাড়ছে যমুনার পানি তলিয়ে গেছে পাকা ধান

আপডেট : ০১ জুন ২০২০, ২১:০৩

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উঠতি বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী মেছড়া, কাওয়াখোলা, কালিয়া হরিপর ও সয়দাবাদ ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে উঠতি বোরো ধান, পাট, তিল কাউনসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। এছাড়া কাজিপুর উপজেলায় তলিয়ে গেছে প্রায় আড়াইশ বিঘা জমির পাকা ধান।

সরেজমিনে এসব এলাকায় দেখা গেছে, তলিয়ে যাওয়া ধান ডিঙি নৌকা ও এক ধরনের কড়ই ব্যবহার করে ডুব দিয়ে কৃষকরা কাটছেন। গাড়াবেড় গ্রামের কৃষক লাল মিয়া জানান, কাটব কাটব করেও সময় পাইনি। হঠাত্ বৃষ্টি হওয়ায় বিপদে পড়েছি। মনসুরনগর ইউনিয়নের কুমারিয়াবাড়ি গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, যমুনার খালগুলোতে পানি ঢোকার ফলে আমাদের এলাকার অনেকেরই পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এখন ধান কাটার লোকও পাওয়া যাচ্ছে না। কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, পাকা ধান দ্রুত কাটতে দশ দিন আগেই পুরো উপজেলায় মাইকিং করা হয়েছে। অনেকেই কেটেছে। যারা কাটেনি তাদের ধানই পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া কয়েক হেক্টর জমির তিল ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে।

বাসাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বাসাইলের কয়েকটি ইউনিয়নের শত শত হেক্টর জমির কাঁচা ও আধা পাকা বোরো ধান খেত তলিয়ে গেছে। এতে শেষ সময়ে এসে ভেঙে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। বাসাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজনিন আক্তার জানান, কিছু কিছু এলাকার নিচু জমির ধান বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় সহস্রাধিক কৃষক ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যে সকল জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকেছে সেগুলো কেটে ফেলতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের জানানো হচ্ছে।