এবারের বাজেট হোক টিকে থাকার জন্য

আপডেট : ০১ জুন ২০২০, ২১:০৬

কৃষির সরবরাহ চেইন ঠিক করার ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে :ড. আতিউর রহমান

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনা পরিস্থিতি স্বাস্থ্যখাতসহ বেশকিছু খাতের দুর্বলতা স্পষ্ট করেছে। অন্য দিকে প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের কষ্ট বাড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকা বিশাল অংশও এই সময়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্দশা বেড়েছে। এমন অবস্থায় দরজায় কড়া নাড়ছে আগামী অর্থবছরের বাজেট। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এবারের বাজেট হওয়া উচিত বেঁচে থাকা এবং টিকে থাকার বাজেট। মানুষকে টিকিয়ে রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন তারা। গতকাল রবিবার রাজধানীতে ব্র্যাক, ডেটা সেন্স ও উন্নয়ন সমন্বয়ের এক যৌথ আলোচনা সভায় তারা এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।

‘কোভিড-১৯ এবং জাতীয় বাজেট ২০২০-২০২১: নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কৌশল পুনর্বিবেচনা’ শীর্ষক ঐ সভায় সভাপতিত্ব করেন পিপিআরসি চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের  চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ  ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ব্র্যাকের পরিচালক কেএএম মোর্শেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আইসোশ্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. অনন্য রায়হান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ যাতে সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা কিংবা সরকারি সহায়তার উপকারভোগী হতে পারে, সেজন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বিদ্যমান নিয়মের কারণে প্রণোদনার আওতায় দেওয়া ঋণের সুযোগ নিতে পারবে না। তারা যাতে এ সতায়তা পেতে পারে কিংবা ব্যাংকগুলো যাতে তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে—এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক যে এক শতাংশ নেয়, তা না নিলে এবং প্রবাসী আয়ের ন্যায় এ খাতের ঋণ বিতরণে দুই শতাংশ করে বরাদ্দ করা হলে সব মিলিয়ে তিন শতাংশ হবে। ব্যাংকগুলো এই সহযোগিতা পেলে তারা ঋণ প্রদানে আগ্রহী হবে। তিনি বলেন, এবারের বাজেট হোক বেঁচে থাকার বা টিকে থাকার বাজেট। এ সময় কৃষির সরবরাহ চেইন ঠিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যখাত এখন আর কেবল এই খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি অর্থনীতির খাতে পরিণত হয়েছে। এ খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। হাসপাতালের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস)  সিনিয়র রিসার্চ  ফেলো  ড. নাজনীন আহমেদ, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন প্রমুখ।