রোকসানা সুইটি
‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’—এই কথাটা আমাদের সবারই জানা। তবে একটি জাতি পিছিয়ে পড়ার জন্য শিক্ষার গুরুত্ব ধরে রাখাটা অপরিসীম। বর্তমানে করোনা আতঙ্কের প্রভাব আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ব্যাপকভাবে পড়েছে।
এ বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ মেলে। ঝুঁকি বাড়তে শুরু করলে সরকারি প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ রাখতে বলা হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থা অন্যতম। আমি এক জন সচেতন নাগরিক হিসেবে তাই মনে করি। নোভেল করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বর্তমান দুর্যোগ সামাল দিতে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বন্ধ রয়েছে প্রায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সীমিত আকারে চালু রয়েছে অপরিহার্য জনসেবামূলক কিছু প্রতিষ্ঠান বা প্রাসঙ্গিক কার্যক্রম।
এরপর একাধিক প্রজ্ঞাপনে এ সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ মে পর্যন্ত এ ছুটি বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। প্রায় দুই মাসে দেশে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে ; এখনো প্রতিদিনের পরীক্ষায় শনাক্তের এ সংখ্যা বাড়ছে। করোনা পরিস্থিতির এখনো কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবধারিতভাবেই সামনের দিনগুলোতে আরো অনেক দিন বন্ধ থাকবে। সরকারি আভাস অনুযায়ী, অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ছুটি চলমান থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এই সময়টাতে দেখা যাচ্ছে করোনার কারণে ঘরের মধ্যেই আবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মানসিকতার ওপর বেশ প্রভাব পড়েছে। তারা পড়াশোনায় মন বসাতে পারছে না। অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা কাজ করছে পড়াশোনার ব্যাপারে।
সরকার যদিও অনলাইনে পড়াশোনা করার জন্য সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন তবুও দেখা যাচ্ছে তারা এ অনলাইনের পড়াশোনা করার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। তারা এ পদ্ধতিতে পড়া ঠিকমতো ধরতে পারছে না।
এছাড়া বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য যেসব শিক্ষার্থী প্রস্তুতি নিয়েছেন তারাও এক ধরনের উত্কণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। কবে নাগাদ এ সময় বাড়ানো হতে থাকবে তাও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। করোনার ফলে আতঙ্কিত হয়ে কোনো শিক্ষকও বাসায় আসতে পারছেন না বা বলতে পারি অভিভাবকরাও শিক্ষকদের বাসায় আসার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। শিক্ষাব্যবস্থার ‘ক্ষতিপূরণ’ কী উপায়ে হবে, এ নিয়ে এখন থেকেই ভাবা জরুরি বলে মনে করি। আমাদের সন্তানরা কবে নাগাদ স্বাভাবিক জীবনে আবার ফিরে আসতে পারবে তা অজানা। করোনা মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থার বিষয়টি এখনই যদি না ভেবে থাকে তাহলে পরবর্তী সময়ে এর প্রভাব এতটাই প্রকোপ হবে তা সামলানো হয়তোবা কঠিন হয়ে পড়বে।
n লেখক : সাবেক শিক্ষার্থী নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ
