চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য আইসিইউ সুবিধার অপ্রতুলতা এবং প্রতিদিন অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে রোগীর মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১০ বেডের স্বয়ংসম্পূর্ণ আইসিইউ ওয়ার্ড গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর তার নতুন হাসপাতাল ভবনে করোনা রোগীদের জন্য তিন ধাপে করোনা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে এক মাসের মধ্যে আইসিইউ ইউনিট চালু করবে বলে জানানো হয়।
বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল সৈয়দ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বন্দরের বোর্ড সভায় আইসিইউ বেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৬০ লাখ লোকের জন্য মাত্র ১০টি করোনা চিকিত্সার আইসিইউ বেড রয়েছে। এরই মধ্যে আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে অনেক মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা গেছে। চট্টগ্রামে এরই মধ্যে প্রায় ৩ হাজার করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় ২০ হাজার সদস্যদের চিকিত্সার জন্য এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আক্রান্ত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিপূর্ণ আইসিইউ-ভেন্টিলেটরসহ করোনা ইউনিট গড়ে তোলার জন্য তাদের নতুন হাসপাতাল ভবনের ওয়ার্ড চিহ্নিত করেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের একটি ফ্লোর ৫০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবে। একটি ওয়ার্ড কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত এবং অক্সিজেন প্রয়োজন এমন সব রোগীর চিকিত্সার জন্য ব্যবহার করা হবে। এই ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে সব সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রথমে ৪০টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের সমন্বয়ে ১ হাজার ইউনিট অক্সিজেন মজুত করা হবে। এর থেকে আটটি সিলিন্ডারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এর জন্য প্রায় চার মাস সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) এবং করোনা ইউনিট প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে থাকা মো. জাফর আলম জানান, তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে ৫ থেকে ১০ আইসিইউ-ভেন্টিলেটরসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিট গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন। বন্দর হাসপাতালে তাদের ১৯ জন চিকিত্সক থাকলেও আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে আইসিইউ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নতুন ডাক্তার, নার্স ও টেকনেশিয়ান নেওয়া হবে।
