অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:০২

বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। মানব উন্নয়ন সূচক এবং নারী-পুরুষ সমতা অর্জনে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় এদেশ এগিয়ে গেছে। কিন্তু এরপরেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। ব্যবসার জন্য নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা দরকার। এগুলো বড় চ্যালেঞ্জ।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এর মাসিক মধ্যাহ্ন ভোজ সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ এ মত প্রকাশ করেছেন। অ্যামচেম সভাপতি নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সাবেক অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম। ড. মনমোহন প্রকাশ বলেন, বিশ্ব প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটের ব্যবহার এগুলো নতুন দিনের জন্য চ্যলেঞ্জ। পরিবর্তীত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত এগিয়ে যেতে বাংলাদেশকে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশকে মানসম্পন্ন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সেইসঙ্গে মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষায় জোর দিতে হবে। বাংলাদেশের মোট জিডিপির প্রায় ৬০ ভাগ আসছে রাজধানী কেন্দ্রিক উত্স থেকে। এজন্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে।

বাংলাদেশের ব্যবসা সহজীকরণে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না উল্লেখ করে অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম বলেন, আফ্রিকার দেশগুলো বাদে বিশ্বের অন্যান্য সবদেশ থেকে বাংলাদেশের কর হার অনেক বেশি। বিশ্বব্যাংকের ডুইং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে মিয়ানমার, আফগানিস্তানের মতো দেশ। তিনি বলেন, এদেশে বিনিয়োগ আসবে কীভাবে যেখানে কর্পোরেট কর হার প্রতিবেশী সবদেশ থেকে বেশি। এটা বিনিয়োগকারীদের জন্য এক ধরনের শাস্তি কি না সে প্রশ্ন করেন তিনি।

সাবেক অর্থসচিব ড. মোহাম্মদ তারেক বলেন, আগামী ২০-৩০ বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ সময়  বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট যুগে বাস করবে। এজন্য কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানব সম্পদ রূপে তৈরি করাসহ সরকারের নীতি সহায়তা বাড়াতে হবে।