দেশে করোনা ভাইরাসের প্রভাব বিস্তারের কারণে গত ২ মাস লকডাউনের মধ্যে ছিল সবাই। বিনোদন জগত্ ছিল পুরোপুরি বন্ধ। সব ধরনের শুটিং বন্ধ ঘোষণা করা হয় শুরু থেকেই। তবে সম্প্রতি নাটকের শুটিং শুরু করা হলেও সিনেমার শুটিং কবে শুরু হবে তা এখনও জানা যায়নি। সারাবছর বাংলা সিনেমা মুক্তি নিয়ে নিয়ে দর্শকদের উত্সাহ যা থাকে তা অনেক গুণ বেড়ে যায় বছরের দুই ঈদে। ঈদের আগে কয়টি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, প্রচারণা কেমন চলছে, কোন সিনেমা কয়টি হল পেল ও ঈদ শেষে এই লেখার বদলে ছাপা হতো কোন সিনেমার ব্যবসা কেমন হলো।
কিন্তু এবারের চিত্রটাই ভিন্ন। এসব কোনোকিছু নিয়েই সরগম নয় দেশের সিনেমা জগত্। থমথমে আবহাওয়া। প্রতিবার যেমন ঈদের দিনগুলোতে হাউজফুল টাঙানো থাকে। এবার ঠিক তার বিপরীত। সুনসান পরিবেশ। তালা ঝুলছে হলগুলো সদর দরজায়।
এমন এক অবস্থায় এবার ঈদ পার করলো ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। সবারই অপেক্ষা আবার কবে ঠিক হবে সব, শুরু হবে শুটিং, সিনেমা হলের দেয়ালে আবারও কবে টানানো হবে নতুন সিনেমার পোস্টার। এমনিতে দেশে গত ১০ বছরে হলের সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকার অবস্থা। হল ব্যবসার অবনতির জন্য ঈদে খুব বেশি সিনেমা মুক্তির ভরসা করেন না প্রযোজকরা। হল ভেঙে হচ্ছে মাল্টিকমপ্লেক্স। কিছুদিন আগে খবর এলো রাজধানীর টিকাটুলিতে অবস্থিত ‘অভিসার’ হল ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কারণ সিনেমার ব্যবসা হল ছাড়া হলেও হলগুলো সিনেমা নির্ভর। তাই ব্যবসায় লোকসান হতে হতে এক সময় বন্ধ হয়ে যায় হলগুলো। দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলো দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরের সিনেমা প্রদর্শন করলেও একক সিনেমা হলগুলো এই বিষয়ে কথা বললে পড়তে হয় নানামুখি বিতর্কে। আর এমন একটি সময়ে যেখানে কোনো নতুন সিনেমা তো নেই, আর কবে নাগাদ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে সবকিছু সেই অপেক্ষা গোনার চেয়ে হল বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন হল মালিকরা। চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতে সবার আগে আমাদের নিরাপত্তা। সিনেমার শুটিংয়ের অ্যারেঞ্জমেন্ট অনেক বড় থাকে। অনেক মানুষ যুক্ত থাকে সেখানে। তাই অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসার পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’ এ অবস্থা কবে ঠিক হবে এখন সবাই তার অপেক্ষায়।
