আবারও বেইলি ব্রিজ ভাঙিয়া পড়ার খবর। গতকাল মুন্সীগঞ্জ-দীঘিরপাড় সড়কের পুরা বাজারের বেইলি ব্রিজটিতে ভারী ভারী কাঠের গুঁড়িবোঝাই একটি ট্রাক উঠিতেই বিকট শব্দে ব্রিজটি ধসিয়া পড়ে। অনলাইন পত্রিকাগুলিতে প্রকাশিত ছবি দেখিলেই অনিয়মের চিত্রটিও যে-কাহারো চোখে পড়িবে। জানা গিয়াছে, ৪২ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটি বহু পুরাতন। ইহার মেয়াদও শেষের দিকে। ব্রিজটি ভাঙিয়া পড়ায় দুই পারের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িয়াছে।
এই ব্রিজ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন। এই ধরনের বেইলি ব্রিজ রহিয়াছে সমগ্র দেশে। প্রায় দুই দশক আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সকল বেইলি ব্রিজে আরসিসি পিলার বসাইবার সিদ্ধান্ত লইয়াছিল; কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখনো অনেক ব্রিজে সেই পাকা পিলার বসানো হয় নাই। কোথাও কোথাও লোহার খুঁটির উপর দাঁড়াইয়া আছে বেইলি ব্রিজ, যাহার উপর দিয়া ভারী যানবাহন যাতায়াত করিতেছে। দেশে দ্রুত যানবাহনের সংখ্যাও বাড়িয়াছে। ফলে ঝুঁকিও বাড়িতেছে সমান হারে। দ্বিতীয়ত, লোহার বৈশিষ্ট্য হইল, উহা সঠিকভাবে যত্ন না লইলে মরিচা ধরিয়া যায়। আর মরিচা ধরিলে সেই লোহার স্বাভাবিকভাবেই কোনো জোর থাকে না। সেই জন্য সাধারণত লোহায় বা স্টিলে যত্নসহকারে রেড অক্সাইড ব্যবহার করিতে হয়, যাহাতে পানি না ধরে। তৃতীয়ত এই ধরনের ব্রিজে কতটা ভারী যানবাহন কতটুকু ওজন বহন করিতে পারিবে সেই বিষয়ে কঠিন তদারকির প্রয়োজন হইয়া থাকে। মোদ্দা কথা, এই ধরনের ব্রিজকে বলা হইয়া থাকে ট্রাস ব্রিজ, অর্থাত্ খুঁটির ব্রিজ। অথচ আমাদের দেশে এই সমস্ত ব্রিজকেই নিয়মিত ব্রিজের বিচারে ব্যবহার করা হইয়া থাকে। ২০১৬ সালেই সরকার এই ব্রিজগুলিতে কংক্রিটের ডেকিং করিবার নির্দেশ দিয়াছে; কিন্তু তাহা আজও হয় নাই। এই কাজে সময় লাগিতে পারে, তাহা অস্বীকার করিব না; কিন্তু দেশের প্রতিটি এলাকা ভিত্তিতে এই সমস্ত ব্রিজ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভাগীয় প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী হইতে শুরু করিয়া উপসহকারী প্রকৌশলী এবং কার্য সহকারী (ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট) পর্যন্ত রহিয়াছেন। ইহার সহিত প্রতিটি অঞ্চলেই জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাহাদের তহবিল থাকে। আমাদের প্রশ্ন হইল—এই যে এত স্তরের প্রকৌশলী রহিয়াছেন, তাহারা কী করেন? এই ধরনের দুর্ঘটনার পর একটি এলাকার ডিপার্টমেন্টভেদে (হইতে পারে উহা এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অথবা অন্য কোনো প্রকৌশলসংশ্লিষ্ট) দায়িত্ব পালনে যাহারা রহিয়াছেন, তাহাদের নিকট কি বিভাগীয় উচ্চ পর্যায় হইতে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়? আমাদের জানামতে হয় না। ইহার অর্থ কি এই যে, জবাবদিহিতার কোনো বালাই নাই? আমাদের পরামর্শ থাকিবে, জনস্বার্থে এই ব্রিজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেরামত করিয়া চলাচলের উপযোগী করিয়া তুলিতে হইবে। ইহার পাশাপাশি দেশব্যাপী যেই সকল বেইলি ব্রিজ নাজুক অবস্থায় রহিয়াছে তাহার প্রয়োজনীয় সংস্কার করিতে হইবে। তাহা না হইলে আরো বড়ো দুর্ঘটনা এবং মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটিতে পারে।
