আলোকপাত

প্রণোদনা প্রসঙ্গে

আপডেট : ০২ জুন ২০২০, ২১:৫৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাই শিল্প ও কৃষি খাতের জন্য প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করার জন্য; কিন্তু সমস্যা হচ্ছে—ছোটো-বড়ো যে সমস্ত গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংকের বিগত দিনের লেনদেন সন্তোষজনক নয় তারা কিন্তু এ প্যাকেজ থেকে কোনো সুবিধা পাবেন না। কারণ গ্রাহক টাকা ফেরত দিতে না পারলেও বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব সমন্বয় করে  নিবে। যেমন বৈশাখকে সামনে রেখে যারা বিনিয়োগ করেছিলেন তারা তো সহসা ব্যাংকের টাকা ফেরত দিতে পারবেন না। তাই বলে ওনারা খারাপ গ্রাহক নন। আবার যে মুরগির বা সবজির খামারটি এ সময়ে বাজারজাতের অভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বা যাবে সে খামারিকে ঋণ দিতে ব্যাংক ঝুঁকি নাও নিতে পারে। কিংবা সদ্য বিদায়ি ঈদকে সামনে রেখে যারা বিনিয়োগ করেছিলেন তারা কিন্তু বিপদে পড়ে আছেন এবং বিপদগ্রস্তদের পাশে ব্যাংক দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এ সমস্ত ব্যবসায়ী বর্তমান অর্থনৈতিক ঘূর্ণিপাক থেকে উঠতে না পারলে বেকার বাড়বে বেসুমার এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে সরকারের। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী গত ডিসেম্বর মাসে যে গ্রাহক ব্যাংকের খাতায় খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন তিনি কোনো ঋণ নিতে পারবেন না। অথচ তার কারখানা কিন্তু বন্ধ হয়নি বা হবে না। সেই গ্রাহক ব্যাংকে ঋণ পরিশোধ অব্যাহত রেখেছেন এবং তিন মাস পরে হয়তো ঐ খেলাপি ঋণ আর থাকবেন না। যদি ব্যাংলাদেশ ব্যাংক বলত, চূড়ান্ত খারাপ (বিএল) ছাড়া সব গ্রাহক এ প্রণোদনার আওতায় আসবেন তা হলে অনেক বেশি গ্রাহক হয়তো ঋণের জন্য আবেদন করতে পারতেন। তবুও ঋণ পাওয়া না পাওয়া ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে। তাই এ বিশেষ প্রণোদনা থেকে হয়তো ৩০ শতাংশ/৩৫ শতাংশ গ্রাহক ঋণ পাবেন না। এবং তারা কারখানার শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন না। এটা আমার অভিজ্ঞজাত ধারণা। আবার বাংলাদেশ ব্যাংক দুই মাসের সুদ মওকুফের বদলে স্থগিতদের জন্য ব্যাংকগুলোকে নিদের্শনা দিয়েছে। শুধু দুই মাসের সুদ স্থগিতে কোনো ফায়দা হবে না। যদি পুরো বছরের ব্যাংকের সব ঋণ গ্রাহকদের সুদ মওকুফ করে দেওয়া হয় তা হলে সব গ্রাহক কমবেশি লাভবান হবেন এবং এক্ষেত্রে সরকার ব্যাংকের ক্ষতি পোষানোর জন্য বিগত তিন বছরের মুনাফার গড় হিসাব করে একটি অংশ অনুদান হিসাবে প্রতিটি ব্যাংককে দিতে পারে। এবং এর সুফল কিন্তু সাধারণ জনগণ অবশ্যই পাবেন। এখনো সিংহভাগ ব্যাংকের বার্ষিক মুনাফা ৫০০ কোটি টাকার ওপরে। তদুপরি সরকার চাইলেই সব শিল্পের জন্য আলাদা করে অনুদান দিতে পারবে না। আবার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য ঘোষিত প্রণোদনাও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির অজুহাতে বিভিন্ন ব্যাংক সময় ক্ষেপণ করছে। অন্যদিকে সরকার পোশাকশিল্পের জন্য রপ্তানির ওপর ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। পোশাকশিল্পে যারা কাপড়, সুতা-বোতাম ঋণপত্রের মাধ্যমে সরবরাহ করেন তারা কিন্তু কোনো প্রণোদনা পান না। অথচ তারা কিন্তু সরকারি ও ব্যাংকের খাতায় রপ্তানিকারক হিসেবেই চিহ্নিত। ওনারাও বন্ডের মাধ্যমে শুল্ক বিনা কাঁচামাল আমদানি করে পণ্য তৈয়ার করে থাকেন। সরকার যদি বিশেষ বিবেচনায় এসব রপ্তানিকারককে বিগত এক বছরের বা এই জুন মাস পর্যন্ত রপ্তানির জন্য একই হারে প্রণোদনা দেয়, তবে এসব রপ্তানিকারক সরাসরি উপকৃত হবেন। এ সুবিধাটা শুধু এই বিশেষ সময়ের জন্য প্রযোজ্য হবে। এ খাতে সরকারের ৩ হাজার-৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ হলেও  এতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সত্ উদ্দেশ্য সফল হবে। আমরা মনে করি, দেশ ও জনগণের স্বার্থে বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করলে সবার দুশ্চিন্তার কিছুটা অবসান হবে।

n লেখক :শিল্প উদ্যোক্তা