জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সাবেক ডিএনডি প্রজেক্ট এরিয়ায় অতি দ্রুত গড়ে ওঠা এক জনবহুল জনপদ, যাত্রাবাড়ী থেকে পূর্ব দিকে বিস্তৃত সংসদীয় এলাকা ঢাকা-৫ আসন। ঢাকা শহরের অত্যন্ত কাছে এলাকাটিতে বর্ষাকালীন জলাবদ্ধতা এবং সরু রাস্তাঘাট ঘিঞ্জি পরিবেশ বাড়িঘর ছোটো ছোটো কলকারখানা গড়ে ওঠায় পরিণত হয়েছে এক বস্তি নগরীতে! তাছাড়া মাতুয়াইলে আছে বিশাল এক ময়লার ডিপো, এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। বৃষ্টিতে ময়লা পানি আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ময়লার ডিপোর দুর্গন্ধ মাইলব্যাপী এলাকায় বাতাসে ছড়িয়ে থাকে। অসহনীয় দুরবস্থায় কাটাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে বছরের পর বছর। যেন দেখার কেউ নেই! যাঁরা সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন, আমার মনে হয় তাঁরা বাস্তবতা অনুধাবন না করে অনুমাননির্ভর হয়ে বা সরেজমিনে সম্পৃৃক্ত না হয়ে মাঠকর্মীদের রিপোর্টই তাঁদের ভরসা জোগায়। সরকারের ব্যয় হয় কোটি কোটি টাকা। বাস্তবায়নের বেলায় ফল হয় উলটো। প্রসঙ্গত, সিটি করপোরেশন তো প্রতিবছরই রাস্তা খুঁড়ে মোটা মোটা পাইপলাইন নির্মাণ করে, কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় নগরজুড়ে। রাজউকের ড্যাব পরিকল্পনায় কোথায় ২০/৩০ ফুট চওড়া রাস্তা, অথচ অল্প কিছু দূরেই হয়তো ৫০ ফুট রাস্তা নির্মাণের নকশা করেছে ড্যাব। সেখানে আছে কয়েক শ বাড়ি। কথা হলো, বর্তমান রাস্তাটিকে চওড়া করা যত সহজ, ঠিক ততটাই কঠিন ঐ বাড়িঘর উচ্ছেদ করা। এটাই সত্য এটাই বাস্তবতা। আমাদের এই এলাকা উন্নয়নের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন—
১. সংসদীয় অঞ্চল ঢাকা-৫ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সঠিক ও ব্যাপক জরিপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা। একটি যুগোপযোগী মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ করতে হবে।
২. গুরুত্ব বিবেচনায় রাস্তাগুলোকে পর্যায়ক্রমে চওড়া করে টেকসইভাবে নির্মাণ করতে হবে। এতে করে অধিক সংখ্যক এলাকাবাসীকে ক্ষতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না। রাস্তা উন্নয়নকাজ করাও সহজ হবে।
৩. মাতুয়াইলের ময়লার ডিপোটি জনবহুল এলাকা থেকে অন্য কোথাও সরাতে হবে অথবা অত্যাধুনিক ময়লার শোধনাগার নির্মাণ করে স্থানান্তর করতে হবে।
৪. যাত্রাবাড়ী থেকে পূর্ব দিকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম বিশ্বরোডে সমদূরত্বে অন্তত দুইটি দ্বিমুখী ইউলুপ নির্মাণ করে দিলে এলাকাটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
লুত্ফর রহমান ভূঁইয়া
মাতুয়াইল, ঢাকা
