বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন পুলিশ সদস্যের করোনার নমুনা সংগ্রহসহ আক্রান্তদের চিকিত্সা দিচ্ছে আউডসোর্সিংয়ে নিয়োগ পাওয়া পাঁচ চিকিত্সক। কেননা উদ্বোধনের ২০ বছরেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন থমকে রয়েছে, তেমনি চিকিত্সক নিয়োগও হয়নি। ২০০০ সালে ছয়তলা বিশিষ্ট ১০০ শয্যার বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের উদ্বোধন হলেও বাস্তবে ২৬ শয্যার দোতলা হাসপাতালে চলছে কার্যক্রম। উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত এক জন ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে চিকিত্সাসেবা নিতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের। এক্সরে মেশিনটি ২০ বছর ধরে পড়ে আছে প্যাকেটজাত অবস্থায়। বিভাগের প্রায় ২০ হাজার পুলিশ সদস্যদের জন্য এ হাসপাতালে ২০০৫ সালে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগ দেন জগদ্বীশ চন্দ্র মিস্ত্রী। এরপর আর কোনো চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমান রেঞ্জ ডিআইজি যোগদানের পর গত বছর এ হাসপাতালটিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পাঁচ চিকিত্সক নিয়োগ দেন। এছাড়া গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর রেঞ্জ ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বিভাগীয় এ পুলিশ হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি ও ডেন্টাল ইউনিট এবং একটি ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করেন।
সূত্র জানায়, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৪ জন চিকিত্সকের সবগুলো এবং নার্স, সহকারী নার্স সবগুলো পদ শূন্য রয়েছে। হাসপাতালটির উন্নয়ন প্রকল্পের সময় অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪র্থ শ্রেণির ১৮ জন কর্মচারীও স্থায়ী হয়নি। বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিত্সক না থাকায় জটিল রোগে আক্রান্তদের উন্নত চিকিত্সার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা কেন্দ্রীয় হাসপাতালে প্রেরণ করতে হয়। সম্প্রতি করোনার উপসর্গ নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রেনিং এবং ওয়েলফেয়ার শাখার কনস্টেবল সোহেল মাহমুদ শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন থেকে শুরু করে কনস্টেবলদের মধ্যে নতুন করে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া না হলে চিকিত্সাব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়বে। অথচ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বিভাগের প্রায় দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্য আউটডোরে এবং গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৬টি বেডের অনুকূলে ২৪ জন করোনা রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এছাড়া গতকাল পর্যন্ত বিভাগে ৮৫ জন পুলিশ সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়।
এদিকে ২০০০ সালে উদ্বোধন হলেও পরবর্তীতে কী কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থমকে যায় এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।
