৫২ দিনে করোনায় মৃত ৬১ জনের দাফন ও সত্কার

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ০০:৩৫

মহামারি করোনা দুর্যোগে নারায়ণগঞ্জে ৫২ দিনে ৬১ লাশ দাফন ও সত্কার করে আলোচনায় আসেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। গত ৩০ মে ৬১তম লাশের সত্কার করে এসে তিনি জানতে পারেন নিজেই করোনায় আক্রান্ত। এর আগে ২৩ মে আক্রান্ত হন তার স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা। কিন্তু তারপরও থেমে নেই তার সেবামূলক কার্যক্রম। তার নির্দেশে তার টিম দরিদ্রদের খাবার সরবরাহ ও করোনায় মৃতদের দাফন ও সত্কার করছে।

খোরশেদ নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি। স্বামী খোরশেদ করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন লুনা। গত ৩০ মে রাতে শুরু হয় তার শ্বাসকষ্ট। স্ত্রীকে বাঁচানোর তাগিদ নিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কারোনায় আক্রান্ত খোরশেদ অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রাতেই বেরিয়ে পড়েন। আইসিওসম্পন্ন হাসপাতালের খোঁজে ছুটে বেড়ান দিগ্বিদিক। পরের দিন সিদ্ধিরগঞ্জের সাজেদা হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ হয়। কিন্তু সকাল হতেই জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে খোরশেদের স্ত্রী লুনার। খোরশেদ দম্পতির এই দুঃসময়ে এগিয়ে এসেছেন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে করোনা আক্রান্ত খোরশেদ দম্পতিকে গত রবিবার ভর্তি করালেন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। তখনই মানবতা উজ্জীবিত হলো। আর হেরে গেল রাজনীতি। শামীম ওসমান জানান, ‘কে আওয়ামী লীগ, কে বিএনপি বা জামায়াত এগুলো বিচার বিশ্লেষণের সময় এখন নেই। সবার আগে মানবতা।’ গত রবিবার নিজের ফেসবুক আইডিতে আল্লাহর কাছে শোকরিয়া জানিয়ে খোরশেদ স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেন, ‘অবশেষে আমি ও আমার স্ত্রী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হতে পেরেছি। আমি এই ভর্তির বিষয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এমপি শামীম ওসমানের প্রতি। করোনা নিয়ে কোনো রাজনীতি নয়। এটা মানবতা প্রদর্শনের সময়।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল জানান, ‘খোরশেদের দুঃসময়ে শামীম ওসমান পাশে দাঁড়িয়েছেন এজন্য তার কাছে কৃতজ্ঞ। রাজনীতি ভুলে তিনি মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন এজন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। কাউন্সিলর খোরশেদ আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরপরই নিজ উদ্যোগে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ শুরু করেন। পরে অনাহারি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে স্বজনরাও লাশ দফন থেকে দূরে থাকেন। এ অবস্থায় তিনি এগিয়ে আসেন। গঠন করেন লাশ দাফন ও সত্কারের জন্য টিম। তার স্ত্রী লুনা করোনায় আক্রান্ত হলেও তিনি পিছপা হননি। গত শনিবার খোরশেদ নিজেই করোনায় আক্রান্ত হন। এরপরও তিনি বাসায় থেকে তার টিমের সদস্যদের লাশের দাফন ও সত্কারসহ অসহায়দের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার নিদের্শনা দিতে থাকেন।