স্বাস্থ্যবিধি মানিয়া রাইডশেয়ারও চালু হউক

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ২২:১২

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ দুই মাসাধিককাল দেশে বন্ধ ছিল গণপরিবহন। ইতিমধ্যে গত পহেলা জুন হইতে সীমিত পরিসরে হইলেও সর্বপ্রকার গণপরিবহন আবার চালু হইয়াছে। ধীরে ধীরে সড়ক-মহাসড়কে বাড়িতেছে যানবাহনের সংখ্যা। আবার গতিশীল হইতেছে স্থবির হইয়া পড়া দেশের অর্থনীতির চাকা। কিন্তু সব রকম গণপরিবহন চালু হইলেও রাইডশেয়ার বা অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবা এখনো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখিয়াছে সরকার। অথচ রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে এই করোনা দুর্যোগকালে অধিকতর নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব। যেহেতু ইহা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত, নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করিলে চালক ও যাত্রী তাত্ক্ষণিকভাবে ফিডব্যাক দিতে পারেন, এমনকি বাতিল করিতে পারেন রাইডও, তাই এই পরিষেবা বন্ধ থাকিবার কোনো অর্থ নাই। তাহা ছাড়া ইতিমধ্যে চালকদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ফেস মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, স্যাভলন ইত্যাদি প্রদানের পাশাপাশি তাহাদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হইয়াছে। তাহাদের অনেকে আবার শিক্ষিত, এমনকি উচ্চশিক্ষিতও। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করিয়া রাইডশেয়ার চালু করা প্রয়োজন।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে প্রতি মাসে ৭৫ লক্ষ রাইড-সেবা নিতেছেন গ্রাহক। সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হইয়াছে গত এক দশকে। ইহাতে আমাদের আধুনিক জীবনযাপনের সংজ্ঞাটাই পালটাইয়া গিয়াছে। ট্র্যাফিক জ্যাম এড়াইয়া সুলভ মূল্যে পরিবহনসেবা পাওয়ায় মোবাইল ইন্টারনেটের যুগে রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি শহরে অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ার পাইয়াছে বিপুল জনপ্রিয়তা। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা বলিতেছে, দেশের বাজারে এখন রাইড শেয়ারিং ব্যবসার আর্থিক মূল্য ২২ শত কোটি টাকা। ইহা মোট পরিবহন বাণিজ্যের ২৩ শতাংশ। এই পর্যন্ত ১২টি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি ব্যবসায় পরিচালনার জন্য লাইসেন্স নিয়াছে। তাহারা ব্যক্তিগত মোটরযান, যেমন—প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটোরিকশা, জিপ ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবহনসেবা পরিচালনা করিতেছে।

রাইড শেয়ারিং পরিষেবা ব্যবহারে সকলের চাইতে অধিক অভ্যস্ত হইয়াছে রাজধানী ঢাকার মধ্যবিত্ত শ্রেণি। ইহা সাধারণ যাত্রীদের এমন কিছু সুবিধা দিতেছে যাহা প্রচলিত পরিবহনব্যবস্থায় অনুপস্থিত। দূরত্ব অনুসারে ভাড়া অনলাইনেই জানিবার যেমন সুযোগ রহিয়াছে, তেমনি হাতের কাছেই অল্প সময়ে পাওয়া যাইতেছে পরিবহনসেবা। ইহাতে চালকের সঙ্গে দরকষাকষি বা বিবাদেরও সুযোগ নাই। ঢাকায় সিএনজি ও ট্যাক্সি ক্যাব চালকরা সুযোগ পাইলেই যাত্রীদের পকেট কাটিত। এই হয়রানি ও বিড়ম্বনাও আর নাই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এক খবরে জানা যায়, বর্তমানে শুধু পাঠাওয়ের নিকট প্রায় ২ লক্ষ নিবন্ধিত চালক রহিয়াছেন। অর্থাত্ অসংখ্য মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের উেস পরিণত হইয়াছে এই রাইডশেয়ার পরিষেবা। অতএব, চালকদের দুঃখকষ্টকে ও রাইডশেয়ারে অভ্যস্ত যাত্রীসাধারণের অসন্তোষকে আমলে নিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হইবে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখিবার জন্য অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন যাহাতে না করা হয়, সেই ব্যাপারে বিআরটিএ বিশেষ নির্দেশনা জারি করিতে পারে।