অবহেলা ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে :কাদের

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ২২:৩৫

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘মানুষের অবহেলা নিজের জন্যই শুধু নয়, পরিবার, সমাজ তথা অন্যদের জন্য ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই জনসাধারণকে সচেতনতার প্রাচীর গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। না হলে জনস্বার্থে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার আরো কড়াকড়ি আরোপ তথা কঠোর হতে বাধ্য হবে।’ গতকাল বুধবার নিজ বাসভবন থেকে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও কিছু কিছু মানুষ তা মানতে শৈথিল্য প্রদর্শন করেছে, যা সংক্রমণের মাত্রা ও আক্রান্তের সংখ্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘ক্রমঅবনতিশীল এ পরিস্থিতিতে সরকার সংক্রমিত এলাকা এবং নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে এলাকাভিত্তিক বা জোনভিত্তিক করার বিষয়টি ভাবছে। বিশ্লেষকগণ এ বিষয়ে কাজ করছেন, কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছেন। জনগণের ঘনত্ব, সংক্রমণের মাত্রা, রোগীর সংখ্যা, পার্শ্ববর্তী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, টেস্টিং সুবিধা, চিকিত্সা সুবিধাসমূহ নানা বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। বিস্তারিত পরিকল্পনা পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই করে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায় এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। নির্দেশনা অমান্যকারী এসব পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি। যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজেদেরও সচেতন থাকতে হবে; তা না হলে বাসযাত্রা হতে পারে সংক্রমণের কেন্দ্র।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি মেট্রোরেল রুট নির্মাণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে মেট্রোরেল রুট-৬-এর নির্মাণকাজ শতকরা ৪৫ ভাগ শেষ হয়েছে।’ মন্ত্রী প্রকল্পের চলমান কাজ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করে আরো গতিশীল করার নির্দেশ দেন। তিনি এ সময় প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন যথাসময়ে পরিশোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘ইতিমধ্যে একসেট ট্রেনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে জাপানে। আরো চারটি সেটের নির্মাণকাজ চলছে।’ বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংকট সমাধানে বিরোধীদলসহ নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। আমরাও সব রাজনৈতিক দলকে ত্রাণসহ অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু বিএনপি সার্কাসের হাতির মতো সমালোচনা বৃত্তে আবর্তিত। শেখ হাসিনা সরকার সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দিতে কাজ করছে। বিএনপি সংকটকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। এটা তাদের কার্যক্রমে পরিষ্কার।’ ভিডিও কনফারেন্সে অন্যপ্রান্তে ইস্কাটনের ডিএমটিসিএল কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।