রাজধানীর মহাখালীর তিতুমীর কলেজের কর্মচারীদের সঙ্গে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে জেকেজি হেলথ কেয়ার নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঐ স্বাস্থ্যকর্মীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের পালটাপালটি বক্তব্য পাওয়া গেছে।
বনানী থানার ওসি নূরে আযম মিয়া বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই কিছু বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এর জের ধরে সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। দুই পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ বিষয়টির নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিতুমীর কলেজের কয়েকটি ভবনে জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রায় ২০০ স্বাস্থ্যকর্মীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলেজ বন্ধ থাকলেও কিছু কর্মচারী ক্যাম্পাসেই থাকেন। তাদের সঙ্গেই কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল স্বাস্থ্যকর্মীদের। কর্মচারীদের ভাষ্য, সোমবার রাতে জেকেজির এক নারী কর্মী আরেক ভবনে থাকা পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তারা বাধা দেন। এর জের ধরে মঙ্গলবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
জেকেজি হেলথ কেয়ারের আহ্বায়ক ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, কলেজের কর্মচারীরা রাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হুমায়ুন নামে এক কর্মীকে তারা গুরুতর জখম করে। আসলে কলেজ কর্মচারীরা ক্যাম্পাস থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের বের করে দিতে চান। এজন্য তারা নানা ছুতোয় ঝামেলা তৈরি করছেন। কর্মচারীরা বিভিন্ন সময়ে পানি ও বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দিয়েছেন। উত্ত্যক্ত করেছেন নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের। দুই মাসে সেখান থেকে তাদের ১০টি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে, যার সঙ্গে কর্মচারীদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ কর্মী আহত হওয়ায় এবং অপর কর্মীরা আতঙ্কে থাকায় বুধবার জেকেজির স্যাম্পল কলেকশন বুথগুলো বন্ধ রাখা হয়।
অন্যদিকে তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুরোধে কলেজের নির্মাণাধীন নতুন ভবন ও অডিটোরিয়ামসহ আরেকটি ভবনে জেকেজির কর্মীদের থাকতে দেওয়া হয়েছে। কলেজ ও হোস্টেল বন্ধ থাকায় ছাত্র-শিক্ষক কেউ সেখানে নেই। তবে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কিছু কর্মচারী আছেন। তাদের ওপরই হামলা চালিয়েছেন জেকেজির কর্মীরা। তারা বাইরে থেকে সন্ত্রাসী এনেছেন। সন্ত্রাসী হামলায় কলেজের গাড়িচালক সাহাবুদ্দিনের হাতে গুরুতর জখম হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কলেজের কর্মচারীদের হুমকি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন অধ্যক্ষ।
এদিকে সোমবার রাতে এক নারী স্বাস্থ্যকর্মী কলেজ কর্মচারীদের বাধা উপেক্ষা করে অন্য ভবনের পুরুষ সহকর্মীদের কাছে যান। তখন কর্মচারীরা ভবনের কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সেই তালা খুলে দেয়। অবশ্য বনানী থানা পুলিশ বলছে, নিরাপত্তার প্রয়োজনে ঐ গেটে সবসময়ই তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়। সোমবারের এ ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্বাস্থ্যকর্মীরা মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
