ক্ষুধার জ্বালায় মানুষের কাছ থেকে একটা আনারস খেয়েছিল সে। যদিও দু’জন। কারণ ওর পেটে ছিল আসন্ন সন্তান। কিন্তু মানুষ খাওয়ালো বিস্ফোরকভর্তি আনারস। আর এতেই তীব্র যন্¿ণা নিয়েই মরতো হলো হাতিটিকে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কেরালার মালাপ্পুরমে। বিস্ফোরকভর্তি আনারস খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে এক মা হাতি ও তার গর্ভে থাকা সন্তানকে।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দায় গর্জে উঠেছে গোটা ভারত। বিজেপি এমপি মানেকা গান্ধী থেকে শুরু করে বলিউড-টলিউড তারকারা সরব হয়েছেন। ধিক্কার দিচ্ছেন সাধারণ মানুষও। তৈরি হয়েছে পোস্টার, শয়ে-শয়ে লেখা সোশ্যাল মিডিয়ায়। সবকিছুরই মূল নির্যাস, ‘মানুষ এমন নিষ্ঠুর হতে পারে? মানুষই এমন পারে এমন অমানবিক হতে!’ পরিস্থিতি বুঝে অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হাতিটির বয়স আনুমানিক ১৪-১৫ বছর। মোহন কৃষ্ণান নামে বন বিভাগের র্যাপিড রেসপন্স টিমের একজন ফরেস্ট অফিসার ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুকে একটি আবেগী পোস্ট করার পর এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে মানুষ। তিনি বলেছেন, ‘মানুষকে বিশ্বাস করাই হাতিটির কাল হলো। খাবার খাওয়ার সময় সে হয়তো ভেবেছিল, মানুষ দিচ্ছে যখন নিশ্চয় ভালো হবে। ভেবেছিল নিজের আসন্ন সন্তানের কথাও। প্রচন্ড যন্¿ণা আর কষ্টেও হাতিটি কারো ক্ষতি করেনি। আসলে ওর ভিতরে ভালো ছাড়া আর কিছু ছিল না।’
কৃষ্ণান জানিয়েছেন, ভেলিয়ার নদী থেকে হাতিটিকে তোলার চেষ্টা হলেও সে কোনো সাড়া দেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ওর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কাজ করছিল। মৃত্যু আসন্ন ভেবেই সে আমাদের কিছু করতে দেয়নি।’ নদীতে দাঁড়িয়েই শেষ নিঃশ্বাস নেয় সে। মৃত্যুর পর তার দেহ ট্রাকে করে জঙ্গলে নিয়ে যান বনবিভাগের কর্মীরাা। সেখানেই দাহ করা হয় তাকে। কৃষ্ণানের কথায়, ‘ডাক্তার ময়নাতদন্ত করে জানান, খুব দ্রুত এক সন্তানের জন্ম দিতো সে। তার মুখ ও চোয়াল ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। মরার সময় কী যে কষ্ট হচ্ছিল ওর! মাথা নত করে ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম আমরা। ক্ষমা কি করবে ওরা? এই ধরনের কাজের ক্ষমা হয় আদৌ?’ -বিবিসি ও ইন্ডিয়া টাইমস
