ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ
ক রোনা দুর্যোগকালে ইমাম-মুয়াজ্জিনগণ কষ্টকর সময় অতিবাহিত করছেন। অসংখ্য ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। গত রমজানে অনেকে বেতন-বোনাস পাননি। পরিবারের দুঃখ-বেদনা ও কষ্ট বুকে নিয়ে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তারা। অবশ্য করোনার এই কঠিন সময়ে আলেমদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে কথা হলো ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহর সঙ্গে। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন— মো. তালহা তারীফ
ইত্তেফাক : আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন মুহতারাম? ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ : ওয়ালাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের দোয়ায় আল্লাহ খুব ভালো রেখেছেন। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
ইত্তেফাক : করোনার কঠিন সময়ে সরকার আলেমদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। আসলে এই ব্যাপারে সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন?
অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ : বর্তমানে অন্যান্য অনেক পেশাজীবীর মতো আমাদের অধিকাংশ আলেম-ওলামার অবস্থাও ভালো নয়। লকডাউনে মাদ্রাসা বন্ধ। মসজিদে মুসল্লির উপস্থিতি খুবই কম। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে প্রথম ধাপে দেশের ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদ্রাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। এছাড়া মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সহয়তার জন্য অনুদান হিসেবে সিটি করেপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত দেশের ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩টি মসজিদে প্রত্যেকটির অনুকূলে ৫ হাজার টাকা হারে মোট ১২২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।
ইত্তেফাক : কিন্তু অধিকাংশ মসজিদ কমিটি ইমামদের অনুদান প্রদান করেননি কিংবা সামান্য কিছু অর্থ প্রদান করেছেন। এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ : লকডাউনের সময়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনগণ তাদের দায়িত্ব পালনে অটল ছিলেন। স্বল্প বেতনে আলেমগণ খেদমত করছেন। অনেক জায়গায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন দেওয়া হয়নি। মসজিদ কমিটিকে দেওয়া মানে এই না যে, এই অনুদান ইমাম-মুয়াজ্জিনদের তারা দেবেন না। এবার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের তেমন হাদিয়া দেওয়া হয়নি। এই সময়ে তাদের সংসার পরিচালনা করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের এই সময়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পরিবারের কষ্ট লাঘব করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী এই অনুদান প্রদান করছেন। মসজিদ কমিটির উচিত তাদের সম্পূর্ণ অনুদান প্রদান করা।
ইত্তেফাক : মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের বিদ্যমান পরিস্থিতির ব্যাপারেও জানতে চাই।
অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ : মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প এখন সপ্তম পর্যায়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পটির জন্য সরকার এই পর্যায়ে ৩,১২৮,৪৬,০০০০০/= (তিন হাজার একশত আঠাশ কোটি ছেচল্লিশ লাখ) টাকা অনুমোদন দিয়েছেন। এখন হাজার হাজার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষক মাসিক সন্মানী খুব দ্রুত পেয়ে যাবেন। এতে তাদের পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটবে বলে আশা করি।
ইত্তেফাক : দারুল আরকাম মাদ্রাসা সেই প্রকল্পের আওতায় আসল না কেন, জানতে পারি কি?
অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ : দারুল আরকাম মাদ্রাসাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান। কিছু সমস্যার কারণে দারুল আরকাম মাদ্রাসা পাশ করা হয়নি। লাখো শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছেন। এখানেও হাজার হাজার আলেমের কর্মসংস্থান হয়েছে। এজন্য সরকার দারুল আরকাম মাদ্রাসা আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে পাশ করতে যাচ্ছে। এ নিয়ে কাজ চলছে। আমরা খুব দ্রুত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান দারুল আরকাম মাদ্রাসা আলাদা প্রকল্প আকারে পাশ করব। ইনশাল্লাহ।
ইত্তেফাক : ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ : ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ আলেম। তারা আল্লাহর দ্বীন প্রচারের জন্য মেহনত করে যাচ্ছেন। আমাদের দেশে তারা শুধু আজান দেওয়া ও নামাজ পড়ানোর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নন। সমাজ পরিবর্তনেও তাদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। মাদক, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি নির্মূলসহ গুজব প্রতিরোধ করছেন মসজিদের খতিব ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ। তারাও বঙ্গবন্ধুর দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার চেষ্টা করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে প্রত্যেক এলাকায় সচেনতা তৈরি করছেন ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ। করোনায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির আত্মীয়রা লাশের কাছে আসতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেও আমাদের দেশের আলেমগণ গোসল, কাফন, জানাজা, দাফনের মতো কঠিন কাজ পর্যন্ত করে যাচ্ছেন। এমনকি তারা করোনায় আক্রান্ত মৃত্যু বরণকারী অন্য ধর্মীয় লোকদের ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী সত্কার্য করছেন। তাদের এই অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি ইত্তেফাকের মাধ্যমে আলেমদের উদ্দেশে বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আলেম ওলামাদের পাশে সবসময় ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন। তিনি যেন আপনাদের খেদমত করে যেতে পারেন। করোনা ভাইরাস থেকে আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, আমিন।
ইত্তেফাক : আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ
অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ : আপনাকেও ধন্যবাদ। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
