স্পোর্টস রিপোর্টার
লালা দিয়ে বল উজ্জল করার ব্যাপারটা আপাতত নিষিদ্ধ হয়ে গেছে ক্রিকেট থেকে। ফলে বোলার সমাজ একটু দুঃখে থাকার কথা। এমনিতেই ক্রিকেট খেলাটা ব্যাটসম্যানদের দিকে ঝুঁকে গেছে। এখন ভারসাম্য আরো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই সময়েই আইসিসি ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান অনিল কুম্বলে বলছেন, স্পিনারদের টেস্ট ক্রিকেটে কাজে লাগানোর এটাই সেরা সময়। আর তেমন উইকেট বানিয়ে দুই স্পিনার নামিয়ে দিলে ফিরে আসবে ব্যাট-বলের ভারসাম্য।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক, সাবেক প্রধান কোচ ও আইসিসি ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান অনিল কুম্বলে কথা বলছিলেন ভারতের বাণিজ্যিক একটি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে। তার কমিটিই লালা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে। এ অবস্থায় তিনি বলছিলেন, ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যে চাইলে নতুন অবস্থায় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, ‘অন্য যে কোনো খেলার চেয়ে ক্রিকেটের ভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তার উইকেটের বৈচিত্র্যের কারণেই বেশি। এটা অন্য অনেক খেলায় নেই। আপনি এমনভাবে উইকেটের ব্যবস্থাপনা করতে পারেন, যেটা আবার ব্যাটে-বলে খেলায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে।’ আইসিসির এই লালা নিষিদ্ধ করায় সমালোচনা কম হচ্ছে না। কিন্তু কুম্বলে মনে করেন, এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি এই অনুষ্ঠানে বলছিলেন, ‘চিকিত্সকদের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা এটা বিশ্বাস করছি যে, লালা এই রোগটি (কোভিড-১৯) ছড়ানোর ক্ষেত্রে বড়ো ভূমিকা রাখতে পারে। আর এ জন্যই আমরা লালার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছি। আমরা জানি, এটা ক্রিকেটের অংশ হয়ে গিয়েছিল। খেলোয়াড়দের এটা মেনে নিতে কষ্ট হবে।’
তবে কুম্বলে মনে করেন, টেস্টে বিশেষ করে স্পিনারদের আরেকটু জায়গা দিলে এই সমস্যাটা কমে আসবে। তিনি বলছিলেন, সে ক্ষেত্রে উইকেট নিয়ে কাজ করতে হবে, ‘আপনি উইকেটে একটু ঘাস রাখতে পারে। কিছু রাফ রাখতে পারেন। আর দলে দুই জন স্পিনার রাখতে পারেন। আসুন, টেস্টে স্পিনারদের ফিরিয়ে আনি আমরা। কারণ, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে বল চকচকে রাখা নিয়ে অতো চিন্তা না করলেও চলে। ওখানে ঘামই যথেষ্ট। কিন্তু আমরা টেস্ট নিয়ে কথা বলছি। আর টেস্টে আপনি কেনো দুই স্পিনার নেবেন না? আমি অস্ট্রেলিয়াতে দুই স্পিনার খেলতে দেখতে পছন্দ করব। যেটা আগে কখনো হয়নি। আপনি এমন দৃশ্য খুব দেখতে পাবেন না। অবশ্যই আমাদের উপমহাদেশে দুই স্পিনার খেলে থাকে। আর এতে আপনার ঘাম বা লালা নিয়ে অতো চিন্তা করতে হবে না। আমরা তখন ক্রিকেট নিয়েই ভাবতে পারব।’
