লঞ্চ ও বাসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তদারকি
শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
বরিশাল নদী বন্দর, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী বাস টার্মিনালে স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। সকাল বিকাল পালাক্রমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নৌবন্দর ও বাস টার্মিনালগুলোতে চলছে তদারকি। পৃথক পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত যানবাহন মালিক, চালক ও স্টাফসহ যাত্রীদেরও করছে জরিমানা। এছাড়া বরিশাল থেকে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করলে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, গণপরিবহনে সরকার প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা লঙ্ঘিত হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রীবাহী লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণসহ সামাজিক দূরত্বও মানা হচ্ছে না। যাত্রী পরিবহন সীমিত করার জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রয়ের জন্য বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে একাধিক টিকিট কাউন্টার স্থাপন ও অনলাইনে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিপজ্জনকভাবে যাত্রী পরিবহন করে লঞ্চ মালিকরা এই অঞ্চলের মানুষের করোনাজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি করছেন। এজন্য গণবিজ্ঞপ্তিতে লঞ্চ মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে এবং ধারণক্ষমতার মধ্যে যাত্রী পরিবহন না করলে মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বিভাগীয় শহর বরিশালের নদী বন্দর থেকেই অভ্যন্তরীণ রুটগুলোসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লঞ্চযোগে যাতায়াত করে যাত্রীরা। এছাড়াও নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এবং রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে যাত্রীরা যাতায়াত করে থাকেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে থেকে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন ও লঞ্চ চলাচলের অনুমতি প্রদান করলেও তা মানা হয়নি কোথাও। গণপরিবহন ও যাত্রীবাহী নৌযান পরিচালনায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই লঞ্চগুলো যাত্রী পরিবহন করে আসছে। ৩১ মে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত লঞ্চগুলোকে রাত ৯টার পরিবর্তে দুই ঘণ্টা পূর্বেই ঘাট ত্যাগ করতে বাধ্য করে। গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান বিআরটিএর কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। জনস্বার্থে বরিশাল জেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। গত কয়েক দিন নৌবন্দর ও বাস টার্মিনালে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
