জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ইতিহাস জানতে সোনারগাঁওতে

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২০

 

জীবনকে সাজাতে শৃঙ্খলা প্রয়োজন। সেই শৃঙ্খলা শেখায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)। শৃঙ্খলার মাধ্যমে শিক্ষা। শৃৃঙ্খলা ও শিক্ষার সমন্বয়ে ভবিষ্যতে যোগ্য লিডার হওয়ার তালিম দেয় বিএনসিসি। এ শিক্ষার অংশ হিসেবেই আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্লাটুনের সদস্যরা ঘুরে এলাম ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী সোনারগাঁতে। ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে আমাদের বাস ছাড়ে। ৭৩ জন ক্যাডেট নিয়ে দুটি বাস সোয়া ১টায় সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের ফটকের সামনে পৌঁছায়। আমরা জাদুঘরে প্রবেশ করি। প্রবেশের পর ক্যাডেটরা ব্যাচভিত্তিক আলাদা দল গঠন করে ছড়িয়ে পড়ে। জাদুঘরের মূল ভবনকে ঘিরে সেখানে রয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। দেশীয় কুটির শিল্পের প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র। রয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বায়োস্কোপ, নাগরদোলার মতো নানা রকম রাইড। একপাশে রয়েছে গ্রন্থাগার। লেকের পাড়ে গাছের ছায়ায় বসে আছেন এক বাউল শিল্পি। চারদিকের হাঁকডাকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। অবিরাম একই সুরে গেয়ে চলেছেন বাউল গান। ক্যাডেটরা এ সব উপভোগ করতে লাগলেন।

জাদুঘরে এ অঞ্চলের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া প্রত্নসামগ্রীর বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। এ সব সংগ্রহের বেশিরভাগই নিত্যব্যবহার্য তৈজসপত্র ও অলঙ্কার। সংগ্রহশালার এক অংশে রয়েছে জামদানির প্রথম সময়কার কাপড়ের নমুনা। এসব দেখে ক্যাডেট রাজু আহাম্মেদ বললেন, এখানে না আসলে আফসোস থেকে যেত। বুঝতেই পারতাম না এত কিছু রয়েছে। এ সব নিদর্শন থেকে ইতিহাসের অনেক অজানা বিষয় জানা যাবে।

এরপর আমরা যাই ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী পানাম নগরে। সেখানে দুপুরের খাওয়া শেষে পুরনো ভবনগুলো ঘুরে দেখি। পুরনো ভবনগুলো ক্যাডেটদের কৌতূহল বাড়ায়। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ধনাঢ্য হিন্দু বণিকরা পানামনগরের গোড়া পত্তন করেন। পূর্ব-দক্ষিণে বিস্তৃত প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ ও ৫ মিটার প্রশস্ত একটি সড়কের দু’পাশে মোট ৫২টি ভবন নিয়ে পানামনগর। ভবনগুলোর সামনে-পিছনের কারুকাজ মুগ্ধ করার মতো।

পানামনগর থেকে বের হতে হতে বিকাল হয়ে গেল। ক্লান্তি ঘোচাতে পানামনগরের পাশেই খোলা মাঠে সবাই গোল হয়ে বসলাম। সেখানে বিকালের নাস্তা শেষে শুরু হলো মজার খেলাধুলা পর্ব। প্রথমে লেডি ক্যাডেটদের বেলুন ফাটানোর খেলা। সবার হাতে একটি করে বেলুন থাকবে। সবাই সবার বেলুুন ফাটানোর চেষ্টা করবে। যার বেলুন শেষ পর্যন্ত অক্ষত থাকবে সেই বিজয়ী। এ পর্বে ক্যাডেট ফাতেমাতুজ জোহরা বিজয়ী হয়। এরপর নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে বল ঝুড়িতে ফেলার খেলায় প্রাক্তন ক্যাডেট দলিল উদ্দিন ও ক্যাডেট কর্পোরাল রাশিদুল ইসলাম আদেশ বিজয়ী হয়।