করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এ পর্যন্ত প্রায় সোয়া ৩০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রপ্তানি আদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। তবে ইউরোপের দেশগুলোতে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সেখানে পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে স্থগিত হওয়া রপ্তানি আদেশের কিছু অংশ ফিরতে শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক জানিয়েছেন, পুনরায় আলোচনার পর স্থগিত হওয়া রপ্তানি আদেশের ২৬ শতাংশ ফেরত এসেছে। তবে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে অনেক ছাড় চাচ্ছে ক্রেতারা। কেউ কেউ ছয় মাস কিংবা বছরও সময় চাচ্ছে, আবার কেউ চাচ্ছে ডিসকাউন্ট।
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য বিশ্বমানের একটি করোনা পরীক্ষার ল্যাব উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ঐ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনলাইনে অনুষ্ঠিত হওয়া ঐ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান প্রমুখ।
করোনা পরিস্থিতিতে কিছু দেশ থেকে বিনিয়োগ সরবে জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, এসব বিনিয়োগ ধরার জন্য কী করতে হবে—তা নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অবশ্য স্থগিত হওয়া রপ্তানি আদেশ কিছু ফিরে আসলেও তা কারখানার চাহিদা ও সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম বলে উল্লেখ করে সাম্প্রতিক ম্যাকেঞ্জির একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, উত্পাদন ক্ষমতার ৫৫ শতাংশ ব্যবহার করে কারখানা চালাতে হবে। কেননা বিশ্বব্যাপী ভোগব্যয় ৬৫ শতাংশ কমে যাচ্ছে। কাজ কমতে থাকলে চলতি মাস থেকেই শ্রমিক ছাঁটাইও শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, এটি বাস্তবতা, করার কিছু নেই। তবে তাদের জন্য কী করা যায়, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা চলছে। এছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনরায় চাকরিতে ঐসব শ্রমিক অগ্রাধিকার পাবে। অবশ্য এপ্রিল ও মে মাসে ছাঁটাইয়ের ইস্যুতে বিজিএমইএ পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।
বিজিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, করোনার কারণে বাংলাদেশের অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ধাক্কা খাবে। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, আগামী ক্রিসমাসের দিকে কিছু ক্রয়াদেশ বাড়তে পারে। এছাড়া গার্মেন্টস খাতকে টেকসই করতে হলে এখন সরাসরি ব্যবসায়ীকে ভোক্তার কাছে যেতে হবে। এ জন্য ভার্চুয়াল মার্কেটপ্লেসে মনোযোগ দিতে হবে। এটি করা গেলে ভবিষ্যতে ব্যবসায়ে টিকে থাকা সম্ভব হবে।
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, করোনা পরিস্থিতিতে চীনের রপ্তানি আদেশ কমেছে ৫২ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের কমেছে দুই শতাংশ আর ভিয়েতনামের বেড়েছে সাত শতাংশ। বাংলাদেশের সামনে এখনো সুযোগ রয়েছে জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘কোভিড পরীক্ষায়’ পাশ করলে আমাদেরও সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইতিমধ্যে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানায় ২৬৪ জন শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আশুলিয়ায় ৭৫০ বেডের একটি আইসোলেশন সেন্টার এবং বারডেমের উদ্যোগে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ৩০০ বেডের হাসপাতাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম, বিটিএমএর সাবেক চেয়ারম্যান মতিন চৌধুরী, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ খান প্রমুখ।
