করোনা ভাইরাসের হট স্পটে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। প্রতিদিন একাধিক ব্যক্তি মারা যাচ্ছে। কিন্তু এই অবস্থার মধ্যে গণপরিবহনে ঠাসাঠাসি করে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। দাঁড়িয়েও যাচ্ছেন অনেক যাত্রী। সামাজিক দূরত্ব মানতে বার বার অনুরোধ করা হলেও তা উপেক্ষিত হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি আরো বেড়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে লোকজনকে বাধ্য করতে প্রশাসনের কোনো তত্পরতাও দেখা যাচ্ছে না। বিআরটিএতে তিন জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্মরত থাকলেও শুধু একজনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফলে পুরো চট্টগ্রাম এক জন ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু সরকারের অনুমতির পর চট্টগ্রামে সর্বত্র যানবাহন চলাচল বেড়েছে। বড়ো বাসগুলোতে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করলেও ছোটো আকৃতির গাড়িগুলোতে ঠাসাঠাসি করে যাত্রী উঠছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গণপরিবহনের গাড়ির মধ্যে মিনিবাস, হিউম্যান হলার, টেম্পু, মাহিন্দ্রা ও সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রী পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর ওয়াসার মোড়, টাইগার পাস, দেওয়ানহাট, চৌমহনী, আগ্রাবাদ, সাগরিকাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় বিআরটিএর একজন ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। ম্যাজিস্ট্রেট নূরে-ই-জামান চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, গণপরিবহনের বড়ো বাসগুলোতে ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন মানা হচ্ছে। কিন্তু ছোটো আকৃতির গাড়িগুলো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এসব কারণে বিভিন্ন গাড়ির বিরুদ্ধে ১০টি মামলা দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি গাড়িকে জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান। বিআরটিএর সহকারী পরিচালক শাহ আলম ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। তবে মানুষ সচেতন না হলে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি বাস্তবায়ন কঠিন।
নগরী ছাড়া জেলার মধ্যে গণপরিবহনের ছোটো বড়ো গাড়ি ব্যাপকভাবে চলাচল করছে। কিন্তু যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো প্রবণতা নেই। জানতে চাইলে জেলা পুলিশের পরিদর্শক মীর নজরুল ইসলাম বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্ব জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএর। আমাদের পক্ষে সড়কে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। অন্যদিকে পরিবহন মালিকদের অভিযোগ, বড়ো বাসে চাহিদা অনুপাতে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কেউ কেউ গাড়ি চালাচ্ছে না। চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব গোলাম রসুল বাবুল বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।
