বানিয়ারচর গির্জায় বোমা হামলায় নিহতের বিচার ১৯ বছরেও শুরু হয়নি

আপডেট : ০৪ জুন ২০২০, ২২:৩২

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জায় বোমা হামলার বিচার দীর্ঘ ১৯ বছরেও শুরু হয়নি। এ কারণে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন তারা।

বোমা হামলায় নিহত সুমন হালদারের বাবা শুখরঞ্জন হালদার বলেন, ২০০১ সালের তিন জুন বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জায় সাপ্তাহিক প্রার্থনা চলাকালে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। আহত হন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অর্ধ শতাধিক মানুষ। তিনি জানান, ‘এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২২ বার বদল হয়েছে। এ কারণে সিআইডি অভিযোগ গঠন করেনি। ফলে আদালত বিচারকাজ শুরু করতে পারছে না। আমরা বিচারের জন্য আর কতকাল অপেক্ষা করব। আমি দ্রুত এ বোমা হামলার বিচার চাই।’

এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় ঐ গির্জার তত্কালীন ফাদার পিতাঞ্জা মিম্মো বাদী হয়ে হত্যা ও বানিয়ারচরের বাসিন্দা পিটার বৈরাগী বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দুটিতে ৩৭ জনকে আসামি করা হয়। মামলা দুটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়। দুই মামলার প্রধান আসামি হরকাতুল জেহাদ নেতা মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নানের ফাঁসি অন্য মামলায় কার্যকর হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় ১২ আসামি জামিনে, ছয় জন পলাতক ও সাত আসামি কারাগারে রয়েছেন।

মুকসুদপুরের বানিয়ারচর গির্জার ফাদার জেরম রিংকু গোমেজ বলেন, নিহতদের স্মরণে বুধবার গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন ও সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সিআইডির গোপালগঞ্জ ক্যাম্পের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতেহ মো. ইফতেখারুল আলম বলেন, এ মামলা দুটিতে বেশ কয়েক জন জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার রয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ চলছে। তদন্ত কাজ শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে আরো সময় লাগবে।