আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য— ‘এখন সময় পরিবেশ সুরক্ষার’। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবার বিশ্ব জুড়েই সীমিত পরিসরে পালিত হবে দিবসটি। বাংলাদেশেও স্বল্প আয়োজনে পালিত হবে দিনটি।
জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে বলেছেন, ‘পৃথিবী জুড়ে নানা বিপর্যয় আমাদের জানান দিচ্ছে পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে। বনে দাবানল, প্রলয়ংকরী ঝড়, খরা সবকিছুই হচ্ছে মানুষের সৃষ্ট কারণে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। মানুষ নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে গিয়ে পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে পরিবেশকে নিজের গতিতে চলতে দিতে হবে। তাহলে আমাদের ভবিষ্যত্ সুরক্ষিত হবে। তাই, এখনই সময় পরিবেশ সুরক্ষার’।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) উদ্যোগে প্রতিবছর সারা বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে ৫ জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জীববৈচিত্র্যের অমূল্য আধার সুন্দরবন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে উল্লেখ করে প্রাণ, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা, বিশেষ করে পরিবেশ আইনসমূহের কার্যকর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
এনভায়রনমেন্টাল পারফরমেন্স ইনডেক্স (ইপিআই)-২০১৮ অনুযায়ী, ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান১৭৯তম হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষায় বিদ্যমান আইনি কাঠামোর যথাযথ প্রয়োগে ঘাটতির কারণে জীববৈচিত্র্য যেমন লোপ পাচ্ছে তেমনি পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে বনভূমি ধ্বংসের কারণে এরই মধ্যে বন্যপ্রাণীর ৩৯টি প্রজাতি বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ আরো প্রায় ৩০টি প্রজাতির অস্তিত্ব মারাত্মক সংকটে রয়েছে যা বনকেন্দ্রিক জীবনচক্র ও বাস্তুসংস্থানের জন্য অশনিসংকেত।
ড. জামান বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরামর্শ ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের সন্নিকটে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অন্যতম নিয়ামক এ প্রাকৃতিক রক্ষাকবচকে স্থায়ীভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে সুরক্ষা প্রদানকারী বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পরিবেশ আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
