নিম্নমানের সুরক্ষা সরঞ্জামে আতঙ্কে ডাক্তার-নার্সরা

আপডেট : ০৪ জুন ২০২০, ২২:৪৪

নিম্নমানের সুরক্ষা সরঞ্জামের কারণে চরম আতঙ্কে রয়েছে চিকিত্সক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ করোনা চিকিত্সার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০ জন ডাক্তার, ২ জন নাস১ এবং একজন স্বাস্থ্যকম১ী মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই, ফেসশিল্প, হ্যান্ড গ্লাভস ও গগলসের কারণে তারা এত বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এসব বিষয়ে যারা অভিযোগ করছেন তাদেরই সরে যেতে হচ্ছে। ফলে দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত তারা থাকছেন বহাল তবিয়তে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গতকাল এক বৈঠকশেষে ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘আমি নিজেই করোনায় আক্রান্ত ছিলাম। চার দিন আগে কাজে ফিরেছি। আজই আমি হাসপাতাল প্রধানদের নিয়ে মিটিং করেছি। তাদের বলেছি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ এখনই ওষুধ এলে হাতে পৌঁছতে এক বছর লাগবে। সেভাবেই হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে। কোন রোগী পজেটিভ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাকে পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা দিতে হবে। এখানে অনেকেই পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থাপনায় অবশ্যই পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি আমরা তাদের বলেছি, কেন্দ্রীয় ওষুধাগার থেকে সব জায়গায় এভাবে সরঞ্জাম পাঠানো কঠিন। তাই আপনারা নিজেরাই টেন্ডার করে এগুলো কিনে নিতে পারেন। সকল সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে অচিরেই করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালগুলোর কোন কোন পরিচালক জানিয়েছেন, এখন তারা এগুলো টেন্ডার করে কিনতে গেলে দলীয় চাপ, ভাগাভাগিসহ নানা ধরনের দুর্নামের মধ্যে পড়বেন। এই দুর্নামের দায় তারা নিতে চান না।  

চিকিত্সকরা বলছেন, দীর্ষদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে অনেকের উপর মানষিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। নিজে করোনা রোগীদের চিকিত্সা দিলেও অনেকের স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা আক্রান্ত হচ্ছেন। অথচ পরিবারের এই বিপদে চিকিত্সক হিসেবে তাঁরা পাশে থাকতে পারছেন না। এতে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। 

ডাক্তাররা বলছেন, তাদের চিকিত্সা সরঞ্জাম ঠিকমতো দেওয়া হলেও এগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবার নার্সদের পিপিই যা দেওয়া হচ্ছে তা অনেক সময় ধুয়ে পড়তে বলা হচ্ছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা রয়েছে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সা দেওয়ার পর এগুলো ধ্বংস করে ফেলতে হবে। আবার স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেককেই এগুলো দেওয়া হচ্ছে না। যা দেওয়া হচ্ছে তা খুবই নিম্নমানের। তারা এগুলো ব্যবহার বিধিও জানে না। 

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন- বিএমএ নেতারা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন,  দুর্নীতির মাধ্যমে নিম্নমানের জিনিসপত্র দেওয়া হচ্ছে।  ১৫ টাকার মাস্ক ১০০০ টাকা দিয়ে কেনা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে গোয়েন্দারা তদন্ত করে একাধিক রিপোর্টও দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে টেকনিশিয়ানদের একটা সংকট চলছে। যারা করোনা রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহ করছেন তারা দক্ষ না হলে রিপোর্ট এলোমেলো হতে পারে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছে। টেকনিশিয়ান সংকটের বিষয়টি অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল তিন হাজার টেকনিশিয়ান নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।   

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে কোন চিকিত্সক করোনা পজেটিভ হলে তার চিকিত্সার পর পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন কাটানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে তিনি মানসিকভাবে সুস্থ্য হয়ে কাজে ফিরছেন। এর আগে অনেক চিকিত্সক আত্মহত্যাও করেছেন। বাংলাদেশেও চিকিত্সক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের এই ধরনের ব্যবস্থা করতে হবে।