মানুষকে রক্ষার চেষ্টা করছি প্রাণপণে

আপডেট : ০৪ জুন ২০২০, ২২:৪৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস মহামারির কবল থেকে দেশের জনগণকে বাঁচাতে এবং অর্থনীতি সচল রাখায় তার সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে বলেছেন, মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পিএমওতে প্রধানমন্ত্রী তার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে অনুদান গ্রহণকালে আরো বলেন, দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করা, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া—সবদিক থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস পিএমওতে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী লকডাউন শিথিল করার প্রসঙ্গে বলেন, যেহেতু অর্থনীতি একেবারে স্থবির অবস্থায় রয়েছে, আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্র এখন উন্মুক্ত করছি। তারপরেও আমি বলব—এই কয় মাস এদেশের নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তসহ প্রায় প্রতিটি শ্রেণির মানুষকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।

দলমত নির্বিশেষে যাদের প্রয়োজন তাদের প্রত্যেকের দোরগোড়ায় খাবার ও সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ায় তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রত্যেকটা শ্রেণি-পেশার মানুষ সবার কাছে যেন আমরা কিছু না কিছু সহযোগিতা পৌঁছাতে পারি। চিকিত্সাসেবা প্রদান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, চিকিত্সাসেবা আমরা ব্যাপকভাবে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি এবং আমরা দিয়ে যাচ্ছি। বিনা পয়সায় চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতি সচল রাখতে নেওয়া পদক্ষেপের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে চলে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের শিল্প থেকে শুরু করে সর্বস্তরের সবাই যেন তাদের কার্যক্রম চালাতে পারে তার জন্য বিশেষ প্রণোদনাও আমরা দিচ্ছি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাদের একটা লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে গড়ব, ২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী; এই মুজিববর্ষ আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে এটা অনেকটাই স্থবির হয়ে গেছে, এটা সত্য। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণসহ যে কোনো সংকট মোকাবিলার আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, যে কোনো বিপদ আসুক বা যে কোনো সমস্যা আসুক সেটা নিশ্চয়ই আমরা মোকাবিলা করতে পারব।’

যেসব সংস্থা এবং ব্যক্তিবর্গ অনুদান দিয়েছেন তারা হচ্ছেন—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান পরিবহন এ পর্যটন কর্তৃপক্ষ, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন, আইপিডিসি ফিন্যান্স লি., লংকা-বাংলা ফিন্যান্স লি., উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি., বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যশোর, জিএমএস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এবং দিএমএস টেক্সটাইল লি., বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, আলিবাবা অ্যান্ড জ্যাক মা ফাউন্ডেশন, ফ্যাশন গ্লোব গ্রুপ, আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফর্মেশন সার্ভিস, সত্সংঘ হেমায়েতপুর, পাবনা এবং পিপিএস পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজ লি.। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোহাম্মাদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পু, অবস এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রাফা ইসলাম, বারডেমর মেডিক্যাল অফিসার ডা. সোনিয়া জামিন প্রিত এবং জেড এইচ সিকদার মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক ডা. সাদিয়া আহমেদ অনুদান প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।