জীবন ও অর্থনীতির স্বার্থে কঠোর লকডাউন দিন

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ০০:২০

মানুষের জীবন ও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির স্বার্থ চিন্তা করে করোনা প্রতিরোধে কিছু সময়ের জন্য কঠোর লকডাউনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে অনেক পদক্ষেপে কার্যকর সুফল আসেনি। করোনা প্রতিরোধে সরকারকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এতে সাময়িক ক্ষতি হলেও বড়ো ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা যাবে। এভাবে চললে অনেকে আমাদের দেশে ব্যবসা করতে আসতে চাইবে না। পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেসরকারি খাত ও অর্থনীতিবিদদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন পরামর্শক প্ল্যাটফরম ‘রিসারজেন্ট বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এসব অভিমত তুলে ধরেন। ব্যবসায়ীদের সংগঠন মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) এবং অর্থনৈতিক থিংক ট্যাংক পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে এ প্ল্যাটফরম তৈরি করেছে।

এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, সবার আগে সব নাগরিকের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কিছু সময়ের জন্য খুব কঠোর লকডাউনে যাওয়া দরকার। যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষা, সামাজিক, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যাওয়া যায়। নতুবা ভবিষ্যতে বড়ো সমস্যায় পড়তে হবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রমে সমন্বয়ের অভাবকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, তথ্যের অভাব রয়েছে। আক্রান্ত, মৃত্যু নিয়ে মতভেদ আছে। প্রকৃত অবস্থা জনগণ না জানলে এর বিস্তার আটকানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে না। সমাজ ও অর্থনীতির আগামী দিনের জন্য স্বল্পমেয়াদে কিছু ক্ষতি মানতে হবে।

শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদউল্লাহ বলেন, শ্রীলঙ্কা শুরুতে কঠোর হয়েছে। স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছে। বিস্তারিত তথ্য বের করেছে। এ কারণে বর্তমানে দেশটিতে প্রাদুর্ভাব কমে এসেছে। ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিমের পরিচালনায় এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ, সাবেক আইন সচিব মোহাম্মাদ শহীদুল হক, বিল্ডের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান প্রমুখ। এ সময় রিসারজেন্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একটি সুপারিশপত্র উপস্থাপন করা হয়।