কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় চলমান বিক্ষোভকে দমন

বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে এখন কী জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র?

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ০০:২৬

বিদেশি কোনো রাষ্ট্রে বিক্ষোভ কিংবা প্রতিবাদ হলে তার শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বা কূটনীতিকরা। তারা বিক্ষোভ দমনের নিন্দাও জানান। এমনকি সংশ্লিষ্ট দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্¿ী বা পররাষ্ট্রমন্¿ীর সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে নিজেদের মতামত বা নির্দেশনা দেন। কিন্তু কৃষাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকান্ডে চলা বিক্ষোভকে যেভাবে দমন করা হচ্ছে এবং যেভাবে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলা হচ্ছে তাতে বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করা মার্কিন কূটনীতিক ঐসব দেশের ক্ষেত্রে এখন কী জবাব দেবেন? সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে প্রভাবশালী মার্কিন মিডিয়া সিএনএন।

গত সোমবার বিক্ষোভকারী এবং সাংবাদিকদের দমনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গভর্ণরদেরকে শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি সেনাবাহিনী নামানোরও হুমকি দিয়েছেন। অনেক স্থানে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনাও ঘটেছে। হোয়াইট হাউজের কাছে বিক্ষোভকারীদের ওপর পিপার বল এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বিক্ষোভ দমনের ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে ১৯৮৯ সালে চীনের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেঁচে থাকা গণতন্¿পন্থি হেনরি লিয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্¿ী মাইক পম্পেও। যদিও বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভের বিষয়টি আসেনি। তবে হেনরি লি বলেন, বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে আমেরিকা। কিন্তু সেই দেশটির জন্যই কঠিন সময় যাচ্ছে।

সাবেক এবং বতর্মান মার্কিন কূটনীতিকরা বলছেন, দেশের ভেতর এই ঘটনা খুবই ভয়াবহ এবং হৃদয়বিদারক। বর্তমান পরিস্থিতি বিদেশে তাদের দায়িত্ব পালনকে কঠিন করে তুলবে। বুলগেরিয়ায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যান্সি ম্যাকএলডোনি বলেন, তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের বিক্ষোভকারীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্¿ীর সাক্ষাত্ খুবই ভাল। কারণ আমরা তখন গণতন্¿পন্থিদেরই সমর্থন জানিয়েছিলাম। আমরা ইউক্রেন, তেহরান, হংকংসহ বিভিন্ন দেশেই এমন অবস্থান নিয়েছি। কিন্তু নিজ দেশের এই পরিস্থিতিতে বিদেশে আমরা কী করতে পারি?

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে চীন, ইরান, এমনকি মার্কিন মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোও। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম তো বলেই দিয়েছেন, তার দেশে পুলিশ বিক্ষোভ দমনে যুক্তরাষ্ট্র বাধা দেয়। অথচ তারাই বিক্ষোভ দমনে পুলিশকে ব্যবহার করছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। দেশ জুড়ে বিক্ষোভে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অস্ট্রেলিয়ার এক সাংবাদিকের ওপর পুলিশের নির্যাতনের তদন্ত দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্¿ী স্কট মরিসন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে দশ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ন্যান্সি ম্যাকএলডোনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব জুড়ে মানবাধিকারের কথা বলে এবং সমঝোতার কথা বলে। কিন্তু আমরাই এখন সেই পর্যায়ে চলে গেছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য মার্কিন কূটনীতিকদের জন্য খুবই কঠিন অবস্থার সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি যদি অন্য কোনো দেশে দায়িত্ব পালন করতাম এবং সেখানে এমন পরিস্থিতি হতো তাহলে প্রেসিডেন্ট, মন্¿িপরিষদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করা, বিক্ষোভ দমন থেকে বিরত থাকা এবং রাজনৈতিক সংলাপের কথা বলতাম। আর এখন আমাদের কূটনীতিকদের জবাব দিতে হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কী করছেন? সেটা এখন বাস্তবেই দেখা যাচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্¿ণালয়ের বর্তমান কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ১৩০ টির বেশি দেশের পুলিশ প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে আছে। কর্মকর্তা জানান, আর্মেনিয়ায় ২০০৮ সালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। আমরা তখন পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের কথা বললাম এবং তাদের প্রশিক্ষণে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ যেন সহিংস পরিস্থিতিতে দমন না করা হয় তা শিক্ষা দিলাম। কিন্তু এখন কী বলবো আমরা? আর্মেনিয়ায় সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন হেফার্ন বলেন, আমরা আর সেই কথাগুলো বলতে পারবো না। কারণ আমাদের আর বিশ্বাসযোগ্যতা থাকলো না।