অবসর সময়টা কাজে লাগুক

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৭

নাই কাজ তো খই ভাজ—অনেক আগে এ কথাটা খুব চালু ছিল। কারণ তখন অবসরে ভাজা খইয়ের মজা নিতে নিতে সময় কেটে যেত। এখন অবশ্য ভাজা খইয়ের মজা নয়, কথার খই ফোটাতেই ব্যস্ত থাকে তরুণ-তরুণীরা। তাও মুখোমুখি নয়; মোবাইল, কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলছে, নয়তো চ্যাটিং করছে। সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে তরুণদের অবসর সময় কাটানোর প্রক্রিয়া। ডাকটিকেট সংগ্রহ, বিমানের মডেল বানানো, বাগান করা বা পোষা প্রাণীটার যত্ন নেওয়ার জায়গায় এখনকার তরুণেরা ফেসবুক, কম্পিউটার গেমস ও টিভি দেখা নিয়েই অবসরে অনেক ব্যস্ত থাকে। নব্বইয়ের দশকে যেখানে প্রতি ছয় জনের মধ্যে একজনের কাছে ডাকটিকেট জমানোটা শখ হিসেবে ছিল, সেখানে বর্তমানে প্রতি ২০ জন তরুণের মধ্যে একজন তরুণ শখ হিসেবে ডাকটিকেট জমান। দুরবিনে চোখ লাগিয়ে পাখি দেখার মতো কাজগুলোও বর্তমান তরুণেরা হয়তো সেভাবে গ্রহণ করে না। কিন্তু প্রতি দশজন তরুণের মধ্যে আট জন তরুণের অবসরের প্রধান কাজ এখন টিভি দেখা। আবার প্রতি পনের জনের মধ্যে দশ জনের কাজ হলো কম্পিউটার গেমস খেলা। অন্যদিকে ৫৮ ভাগ তরুণের চোখ পাখি বা প্রাচীন কোনো স্ট্যাম্পের ওপর পড়ে না। তাদের চোখ পড়ে কম্পিউটারের পর্দায় ফেসবুকে। তরুণদের সময় কাটানোর ধরন নিয়ে ক্যাডেট ফোর্স কর্তৃক পরিচালিত এক জরিপ থেকে এসব তথ্য জানা যায়। অথচ অবসর সময়টা অযথা ব্যয় না করে কাজে লাগানোটাই বুদ্ধিমানের পরিচয়। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই সময়ের গুরুত্বটা জানা বেশি প্রয়োজন।

প্র য়ো জ নী য়  কি ছু কৌ শ ল

n অবসরকে কাজে লাগানোর প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের তালিকা তৈরি। প্রতি মুহূর্তেই হাজারটি ভিন্ন ধরনের কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে কোন কাজটি বিশেষভাবে করা প্রয়োজন তা নিরূপণ করতে পারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

n সবসময় দেখবেন জরুরি কাজ করতে করতে সময় পার হয়ে যাচ্ছে। মুহূর্তের প্রয়োজন পূরণ করার পর সুদূরপ্রসারী কাজের জন্য সময় পাওয়া যাচ্ছে না। সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যের জন্য প্রতিদিন আধঘণ্টা থেকে একঘণ্টা সময় ব্যয় করুন। পরবর্তী জীবনে দেখবেন এই আধঘণ্টা-একঘণ্টা সময়ই আপনাকে বড় ধরনের তৃপ্তি দিচ্ছে। 

n শুধু পরিকল্পনা নয়, চেষ্টা করতে হবে তা বাস্তবায়ন করার। প্রথমদিকে রুটিনমাফিক কাজ করা অসুবিধা হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে সময়কে শাসন করতে হবে নিজের মনমতো।

n খেলাধুলা একজন তরুণকে দিতে পারে নির্ভেজাল আনন্দ। তাই প্রতিদিনের রুটিনে থাকা উচিত খানিকটা খেলাধুলা, খানিকটা আড্ডা কিংবা একটু ইন্টারনেটে দুনিয়াটা দেখে নেওয়া ইত্যাদি। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে খেতে গেলেও অনেক কিছু আবিষ্কার করা যায়, যা জীবনে কাজে লাগতে পারে।

তারুণ্য জীবনের সবচেয়ে জ্বলজ্বলে সময়। তাই বয়স যতই বাড়ুক না কেন স্মৃতির মণিকোঠায় তারুণ্য বরাবরই থাকে উজ্জ্বল। তারুণ্যের প্রতিটি ক্ষণই অনেক যত্ন করে কাটানো উচিত, পরবর্তীতে যেন সময়টিকে নিয়ে কোনো আফসোসের অবকাশ না থাকে। তাই আপনার এ সময়ের প্রতিটা মুহূর্ত কাটুক আনন্দে।