সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো দিনে দিনে যেভাবে ব্যবহারকারীদের আগ্রহের জায়গা হয়ে পড়েছে, তাতে প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় দিকই বেশ লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ছোটখাটো ইস্যুতে যেমন আগুন ছড়িয়ে পড়ে, বড় বিষয়গুলোতেও একই অবস্থা। পরিসংখ্যান ঘাটলে অবশ্য ইতিবাচক দিকই বেশি পাওয়া যাবে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের সমস্যার সমাধানে যদি ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটু পাত্তা লাগানো যায়, তাহলে ভার্চুয়াল জগতের বন্ধুদের কাছ থেকে ছুটে আসে হাজারো সমাধানের পথ। আবার কারও বিপদেও বাড়িয়ে দেওয়া যায় সাহায্যের হাত। রক্ত জোগাড়ের মতো কঠিন ব্যাপারগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে আজ সহজ হয়ে গেছে। কঠিন রোগে আর্থিক সাহায্য আজকাল তোলা হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমেই। গণপ্রচারণা, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি বিষয়গুলো তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়ে কার্যকর উপায় আর হয় না।
অনেকেই তো আবার স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করছেন। বাজারের নাম ‘ফেসবুক’। সাড়াটাও অভাবনীয়। তাই, কোনো সময় যদি এগুলো সরকার থেকে কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখা লাগে, সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখোমুখি হন এ রকম স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ীরা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক দিকেরও অভাব নেই! আজকাল তরুণদের আলোচনার জায়গা যতটুকু না বাস্তবসম্মত, তার চাইতে কয়েকগুণ বেশি ‘ভার্চুয়াল’সম্মত। ফেসবুকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা কোনো রাজনীতিকের দেওয়া পোস্টের বিপরীতে গরম হচ্ছে চায়ের কাপ। তা ছাড়া ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে নারী নির্যাতন কিংবা ব্ল্যাকমেইলের মতো ঘটনা। এগুলোর প্রতিরোধও অবশ্য এই ফেসবুকের মাধ্যমেই হচ্ছে। অপরাধী পাচ্ছেন শাস্তি। সবমিলিয়ে এ কথা না বললেই নয় যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের খুব কাছের একটি অংশ হয়ে গেছে। তবে হ্যাঁ, ভবিষ্যত্ অন্তত অদূর ভবিষ্যত্ বুঝেই আমাদের ফেসবুক ব্যবহার করা উচিত।
