স্পোর্টস রিপোর্টার
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই দুস্থ মানুষের পাশে ছিলেন ক্রিকেটাররা। গত ২৫ মার্চ করোনার জন্য ৩০ লাখ টাকার তহবিল গঠন করেছিল বাংলাদেশ জাতীয় দল। কর কেটে অঙ্কটা ছিল প্রায় ২৬ লাখ টাকা। নিজেদের বেতনের অর্ধেক দান করেছিলেন টাইগাররা। করোনার ধাক্কার শুরুতে কোনো প্রতিষ্ঠিত প্ল্যাটফরম থেকে এটাই ছিল সবচেয়ে বড়ো উদ্যোগ। পরে দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে করোনাকালে সহযোগিতার হস্ত প্রশস্ত করতে দেখা যায়।
তখন শোনা গিয়েছিল, ক্রিকেটারদের অনুদান জমা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিলে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এমনটা হয়নি। নিজেদের তহবিলে জড়ো হওয়া অর্থ করোনার সময়ে ক্রিকেটাররা নিজেরাই বণ্টন করেছেন। ক্রিকেটার, গ্রাউন্ডসম্যান, বিসিবির অসচ্ছল কর্মীদের সহযোগিতা দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। সর্বশেষ সারা দেশে আর্থিক অনটনে থাকা বিসিবির ৩৭০ জন কর্মীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের আর্থিক সাহায্য হস্তান্তর করা শুরু করেছেন ক্রিকেটাররা।
ক্রিকেটারদের করোনা তহবিল গঠন উদ্যোগের সমন্বয় করেছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ক্রিকেটারদের একাত্ম করার কাজটা করেছেন তিনি। নিজেদের দানের টাকা নিজেরাই বণ্টন করছেন জানিয়ে গতকাল বাঁহাতি এই ওপেনার বলেছেন, ‘আমরা প্রথমে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে আলাপ করেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে দেওয়ার জন্য। তারপর বোর্ড সভাপতির কাছে তথ্য এসেছে যে ওটা ওখানে না দিয়ে আমরা আমাদের যারা ক্রিকেটাঙ্গনের আছে, তাদের দিলে জিনিসটা আরো ভালো হবে। ওখান থেকে ঐ নির্দেশ আসার পর থেকে আমরা নিজেরা এখন সবাইকে দিচ্ছি।’
এর অংশ হিসেবে খুলনার প্রয়াত ক্রিকেটার কাজলের পরিবারকে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য দেওয়া হয়েছে জাতীয় দলের তহবিল থেকে। তামিম বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এসব জায়গায় যাচ্ছে। এগুলো বাদ দিয়েও অনেক জায়গায় গেছে। অনেক খেলোয়াড়কে সাহায্য করা হয়েছে। তারপর আমরা ৩৭০ জনের তালিকা করেছি। পুরো বাংলাদেশে বিসিবির যত স্টাফ আছে, যত গ্রাউন্ডসম্যান আছে, যাদের অবস্থা অত ভালো না, তাদের আমরা আস্তে আস্তে টাকা দেওয়া শুরু করতেছি।’
