ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাব
ইত্তেফাক ডেস্ক
খুলনার দাকোপে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে নদীভাঙনে কয়েকটি স্থান মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ওয়াপদা বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্য দিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আবারও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, দাকোপে ভাঙনকবলিত এলাকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পাউবোর কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। কামনিবাসীয়া এলাকার রাম ঢালী, তারাপদ দাস, সুশান্ত গোলদারসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বসতবাড়িসহ সবটুকু ঢাকী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রণজিত কুমার মণ্ডল বলেন, এ পর্যন্ত ভাঙনে অনেক লোকের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেকেই বেড়িবাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বাঁধ দিতে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ জানান, ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করে দ্রুত বাঁধ মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ আসলে কাজ শুরু হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। আমরা শুধু জিও ব্যাগসহ কিছু সরঞ্জামাদির সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি। বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা দিয়েছি। বাজেট পেলে টেকসই বাঁধের কাজ শুরু করা হবে।
মোহসীন পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, নিজামপুর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে ভেঙেছে। এর ফলে পাঁচটি গ্রামের হাজার হাজার কৃষক পুনরায় পানিবন্দিসহ আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছে। কৃষক আলতাফ শরীফ বলেন, আন্ধারমানিক নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের তাণ্ডবে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর পানির চাপ বাড়লে এ বাঁধটি যে কোনো মুহূর্তে ছুটে যেতে পারে।
মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. ছালাম আকন জানান, এখানে সাড়ে ৮০০ মিটার রিং বেড়িবাঁধ হয়েছে। তাও আবার আম্ফানে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেছে। এর আগে ভাঙন এলাকা মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গিয়ে অনেক বার ঘুরেছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে রিং বেড়িবাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরজমিনে পরিদর্শন করেছি। এ সাগর মোহনায় পূর্ণাঙ্গ বেড়িবাঁধ করা দরকার। এর জন্য প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
