ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সকল দেশকে চলতি মাসের মধ্যেই নিজেদের মধ্যকার সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপিয়ান কমিশন। জুনের শেষে হলেও দেশগুলোর বাসিন্দারা যেন জোটভুক্ত এলাকায় পাসপোর্ট ছাড়া চলাচল শুরু করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সীমানায় বিভিন্ন দেশের দেওয়া বিধিনিষেধও তুলে নিতে বলেছে তারা। ইউরোপজুড়ে করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতির ‘দ্রুত উন্নতি হচ্ছে’ দাবি করে সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশ্যে কমিশন এ আহ্বান জানিয়েছে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কিত কমিশনার ইলভা জোহানসন ইউরোনিউজকে বলেছেন, ‘অভ্যন্তরীণ সীমান্তগুলোতে দেওয়া বিধিনিষেধ ও তল্লাশি প্রত্যাহারের কাছাকাছি সময়ে চলে এসেছি আমরা।’ ইইউভুক্ত কিছু কিছু দেশ এরই মধ্যে সীমান্তে বিধিনিষেধ শিথিল করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জোটের সব দেশের মধ্যকার সীমান্ত খুলে দেওয়ার জন্য ‘জুনের শেষ দিক’ ভালো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইউরোপের দেশগুলোতে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় যেসব বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছিল, এখন সেগুলো ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশ তাদের সীমানাও খুলে দিয়েছে। নিজেদের মধ্যকার সীমান্ত খুলে দেওয়া নিয়ে আলোচনা চললেও জোটের বাইরের দেশগুলোর জন্য কবে সীমান্তের বিধিনিষেধ শিথিল হবে সে সম্বন্ধে জোহানসন কোনো ইঙ্গিত দেননি।
ইইউর নির্বাহী বিভাগ হলেও সদস্য রাষ্ট্রের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার নেই ইউরোপিয়ান কমিশনের। এ কারণে সীমান্ত খুলে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত জোটের দেশগুলোর সরকার বা পার্লামেন্টকেই নিতে হবে। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সদস্য দেশগুলোর আলাদা আলাদা সিদ্ধান্ত যেন বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করতেই কমিশন একযোগে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর থেকে সীমান্ত উন্মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জোটের বেশিরভাগ দেশ এরই মধ্যে এ সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
