মূল পরিকল্পনাকারী ধরাছোঁয়ার বাইরে

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ২১:৪১

রাজধানীর তুরাগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অংশ নেওয়া সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিমসহ তিন জন গ্রেফতার হলেও মূল পরিকল্পনাকারী এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ হত্যার ঘটনার পর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এক জন জনপ্রতিনিধির কথিত ব্যক্তিগত সহকারী আত্মগোপন করেছেন।

গত ১১ মে তুরাগ থানাধীন উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের পাঁচ নম্বর ব্রিজের কাছ থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী খাদিজা আক্তার তুরাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। গত ২১ মে এ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত দেলোয়ারের সহকর্মী সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিম, ভাড়াটিয়া খুনি শাহীন ও গাড়িচালক হাবিবকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। মূলত সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারদের শতকোটি টাকার বিল আটকে রাখার জন্যই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। প্রভাবশালী ঠিকাদাররা কাজ না করে এবং কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঠিকাদারদের এ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রকৌশলী দেলোয়ার। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নগরভবনে নিয়মিত যাতায়াতকারী মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের যোগাযোগ ছিল। মনির হোসেন সিটি করপোরেশনের এক জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে মনির হোসেন ঐ জনপ্রতিনিধির নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিগত সহকারী নয় বলে জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা। দেলোয়ার খুন হওয়ার পর মনির হোসেন নামে ঐ ব্যক্তি আত্মগোপন করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তুরাগ থানার ওসি নুরুল মুত্তাকিন বলেন, ‘কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া তিন আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে তিন জনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। ঐ তিন জন সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। ঘটনাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’

এদিকে, পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এ খুনের ঘটনাটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃৃক যথাযথ তদন্তের পাশাপাশি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজ চক্রের মুখোশ উন্মোচন করা ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতায় এ ঘটনায় সরাসরি জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত এবং গ্রেফতার আশাবাদ তৈরি করলেও নেপথ্যের রাঘববোয়াল কাউকেই এখনো আইনের আওতায় আনা যায়নি বলে মনে করে টিআইবি।