ভালো নেই খবরের কাগজের হকাররা

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ২১:৫৭

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

ভোর হতেই বাইসাইকেল নিয়ে যারা ছুটে সকাল সাতটার আগে মানুষের বাসায় খবরের কাগজ পৌঁছে দেন, ভালো নেই, সেই হকাররা। তাদের খবর আমরা কয়জনই বা রাখি। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের অন্তরালে পড়ে থাকে হকার খোকন ও বাবুলের জীবনযুদ্ধের গল্প।

হকার খোকনের বয়স ১৪, বাবা নেই, মা আর ছোটো দুই বোনকে নিয়ে তার সংসার। খোকন বলে, ‘আমাগো খবর কেউ রাহে না। আগে বাসায় এবং পরে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাস্তায়, গাড়িতে পেপার বেইচ্যা আমাগো ভালোই চলতো, কিন্তু লকডাউন থাইক্যা আমাদের খুব খারাপ দিন যাচ্ছে।’ খোকনের মা খালেদা খাতুন বলেন, ‘পোলায় সহালে পেপার বিলি কইর্যা আইলে মাইয়্যা পারুল যাইতো বড়ো রাস্তায় পেপার বেচতে। অহন মাইনষের দ্বারে দ্বারে খাবার চাইয়্যা অইন্যা খাইতে হয় আমাগো।’

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে পত্রিকার বিকিকিনিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই বাস্তবতায় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে হকারদের। আয় কমে গেছে। অন্য স্বল্পআয়ের মানুষের মতো দুশ্চিন্তার শেষ নেই তাদেরও। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সংকটে পড়েছেন পেপার বিক্রেতা বা হকাররা। মোহাম্মদপুর এলাকার হকার বাবুল আহমেদ বলেন, ‘আমার লাইনে মাসে ৩০০-র বেশি পত্রিকা বিক্রি হইতো। মাসে আয়ও ছিল ভালো।’ কিন্তু লকডাউনে জাপান গার্ডেন সিটি, মোহাম্মদপুর বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকানো ছিল, ঐসব এলাকায় ঢুকতে পারি নাই। তাই গত দুই মাসে পেপার বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। কোনো বিল্ডিংয়ে ঢুকতে দেয় না। প্রতিটা ব্যাংকে চার/পাঁচটা করে পেপার নিতো, এখন সেখানে একটাও নেয় না। অন্য হকারদেরও একই অবস্থা। এই কারণে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান বাবুল। তিনি বলেন,‘পরিবার গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিছি, বাড়ি ভাড়া দিতে পারতাছি না’।

‘হকারদের খবর কেউ রাখে না’ বলে আক্ষেপ করে বাবুল মিয়া বলেন, মানুষ পত্রিকায় খবর দেখে। সবার কাছে পত্রিকা, খবরের গুরুত্ব আছে। কিন্তু আমরা পেপারওয়ালা তো, আমাদের কোনো গুরুত্ব নাই। করোনা ভাইরাস আসার পর থেকে কেউ বাসায় ঢুকতে দেয় না। আমরাও পত্রিকা দিতে পারি না। পত্রিকার মাধ্যমে করোনা ছড়ায় না, বিষয়টি আরো আগেভাগে প্রচার করা দরকার ছিল বলে মনে করেন তিনি।