ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে নিহত ১৮৫

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ২১:৫৭

যাত্রী কল্যাণ সমিতি

বিশেষ প্রতিনিধি

সাধারণ ছুটি বা লকডাউনে দেশে গণপরিবহন বন্ধ ছিল। ৯০ শতাংশ যাত্রীর যাতায়াত বন্ধ থাকলেও সেই তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ঈদুল ফিতরের যাতায়াতে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ১৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬৮ জন নিহত ও ২৮৩ জন আহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ১৫৬টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ২৮৩ জন আহত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ‘ঈদের আগে-পরে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতিবেদনটি তৈরি করে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টারের চেয়ারম্যান নুর নবী শিমু, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি তাওহীদুল হক লিটন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব এম মনিরুল হক, পাথওয়ের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহিন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির আমজাদ হোসেন প্রমুখ।

সম্মেলনে বলা হয়, ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ কারণে যাত্রী কল্যাণ সমিতি প্রতিবছর ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঈদযাত্রা ব্যক্তিগত পরিবহনে সীমিত ছিল। তা সত্ত্বেও ঈদের আগে-পরে সড়ক দুর্ঘটনা ছিল আগের চেয়ে বেশি।

ঈদযাত্রার এই ১৩ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয় ২৫ মে। ঐদিন ২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয় ২৪ মে। ঐদিন ছয়টি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় জন নিহত ও দুই জন আহত হন। আর এক দিনে হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঘটে ১৯ মে। ঐদিন ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হন। এই সময় এক দিনে সর্বোচ্চ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে ঈদের দিন ২৫ মে। সেদিন ১৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ২৪ জন আহত হন। ১৩ দিনে সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৪৫ জন চালক, ৩৩ জন নারী, ২৮ জন পথচারী, ২৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ২৪ জন শিশু, ১৯ জন শিক্ষার্থী, পাঁচ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, তিন জন শিক্ষক, তিন জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তিন জন সাংবাদিক এবং এক জন প্রকৌশলীর পরিচয় মিলেছে। সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট যানবাহনের ৩৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ১২ দশমিক ৭ শতাংশ কার-মাইক্রো-জিপ, ৮ দশমিক ২১ শতাংশ অটোরিকশা, ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা-ইজিবাইক-ভ্যান-সাইকেল, ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর-লেগুনা-মাহিন্দ্র ও শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ বাস এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।